কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের আবেদনে ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন ৫০০-রও বেশি মানুষ
প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

আলবেনিয়ার লোঝান গ্রামে আয়োজিত ডিজিঅ্যাকশন পিকনিক। ছবি: কেন্দ্র কাজুস। অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত।
এই সাক্ষাৎকারটি ডিজিটাল স্পার্ক অনুদান কর্মসূচির কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ। কর্মসূচিটি গ্লোবাল সাউথকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভের (ডিডিআই) আওতায় আঞ্চলিক সহায়তা ব্যবস্থা ইইসিএ প্রকল্পের অন্তর্গত। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে মেটামরফোসিস ফাউন্ডেশন ও টেকসুপ। সহযোগিতায় রয়েছে সিভিকাস এবং ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভ (ডিডিআই)। বিষয়বস্তু বিনিময়ের চুক্তির আওতায় সাক্ষাৎকারটি গ্লোবাল ভয়েসেসে প্রকাশিত হচ্ছে।
আলবেনিয়ার গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় পরিবেশ ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে তরুণদের খুব একটা সামিল করা হয় না। অথচ এই সমস্যাগুলির প্রভাব তাঁদের জীবনেও পড়ে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় কোরচা অঞ্চলেও ছবিটা আলাদা নয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল এই অঞ্চল।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির অন্যতম মালিক পুরসভায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে বর্জ্য ফেলার অনিয়মের কারণে। যত্রতত্র বর্জ্য জমে নিকাশি নালাগুলি আটকে যায়। এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া দেভোল নদীও এর ব্যতিক্রম নয়। অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে নদীর জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি ও নদী পরিষ্কারের জন্য প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।

আলবেনিয়ার মালিকে দেভোল নদীর সেতুর কাছে জমে থাকা বর্জ্য। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরের ছবি। ছবি: কেন্দ্র কাজুস। অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত।
২০২৬ সালে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা কেন্দ্র কাজুস এই দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবিলায় এলাকার তরুণদের নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। পরিবেশ রক্ষার কাজে তাঁদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করাই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তরুণদের অংশগ্রহণ, ডিজিটাল গণতন্ত্র, পরিবেশগত সংকট এবং জনস্বার্থে প্রচারের বিষয়গুলি কীভাবে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে, তা জানতে গ্লোবাল ভয়েসেস সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ধোরজেলা সেলার সঙ্গে ইমেলে কথা বলেছে। সাক্ষাৎকারটি পড়ার সুবিধার জন্য সংক্ষিপ্ত ও সম্পাদিত করা হয়েছে।
গ্লোবাল ভয়েসেস (গভো): আপনাদের সংস্থা সম্পর্কে বলুন। ডিজিটাল স্পার্কস প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?
ধোরজেলা সেলা (ধো. সে.): কেন্দ্র কাজুসের প্রতিষ্ঠা ২০২৪ সালে। তরুণদের সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের দলে সাংবাদিক, আলোকচিত্রী সাংবাদিক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম, আইন ও পরামর্শদানের কাজে তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তরুণদের নেতৃত্বে জনস্বার্থের পক্ষে প্রচারের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করতে চাই আমরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করি। নতুন সংস্থা হিসেবে এত দিন আমাদের কাজ মূলত ছোট ছোট উদ্যোগ ও প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ডিজিটাল স্পার্কস আমাদের ডিজিটাল মাধ্যমে জনস্বার্থের পক্ষে প্রচারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আমরা বুঝতে পারি, গ্রাম ও শহরের তরুণদের প্রতিদিনের সঙ্গী মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই নাগরিক অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহি আদায়ের হাতিয়ার করে তোলা সম্ভব।
গভো: আপনাদের এলাকায় কোন সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ এই প্রকল্প হাতে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল?
ধো. সে.: পূর্বাঞ্চলীয় কোরচা অঞ্চলের দেভোল নদী এখন গুরুতর পরিবেশগত সংকটের মুখে। নদীর দুই পাড়ে প্লাস্টিক, নির্মাণবর্জ্য, কৃষিজ বর্জ্য ও নানা ধরনের আবর্জনা জমে রয়েছে। শীতকালে বন্যার সময় নদীতে জল বেড়ে গেলে সেই বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে এবং নিকাশি খালগুলি আটকে দেয়। নদীর জল উপচে কৃষিজমি ও বসত এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে মাটির স্বাস্থ্য, মানুষের জীবিকা এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লোঝান ও পোয়ান গ্রামে বর্জ্যের পরিমাণ বিশেষভাবে বেশি। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনও যেন কার্যত অসহায়।
সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় ছিল, গ্রামাঞ্চলের তরুণদের এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে সামিলই করা হচ্ছিল না। অথচ তাঁদের অনেকের পরিবার কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল এবং এই সমস্যার সরাসরি শিকার। তরুণদের হাতে মোবাইল ফোন ছিল, নিজেদের মতামতও ছিল। কিন্তু সেই মতামতকে জনসমক্ষে তুলে ধরে প্রশাসনের উপর চাপ তৈরির কোনও উপায় তাঁদের ছিল না।
আমরা দেখাতে চেয়েছিলাম, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে তরুণরা তথ্যপ্রমাণ ও সম্মিলিত কণ্ঠস্বরের জোরে দাবি জানাতে পারেন।

২০২৬ সালের মে মাসে পোয়ানে দেভোল নদীর তীরে জমে থাকা বর্জ্য। ছবি: কেন্দ্র কাজুস। অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত।
গভো: প্রকল্পে অংশগ্রহণের সময় আপনাদের সংস্থা কী কী গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বা কী কী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে?
ধো. সে.: আমরা প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেছি।
প্রথমে মালিক পুরসভার ৪৪ জন তরুণকে বেছে নিয়ে মোজো বা মোবাইল সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দিয়েছি। মোবাইল ফোনে গল্প বলা, রিলসের জন্য ভিডিও সম্পাদনা এবং ক্যানভায় গ্রাফিক ডিজাইনের মতো দক্ষতাকে জনস্বার্থে প্রচারের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় পর্যায়ে দেভোল নদী ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির কাছে দুটি ডিজিটাল পিকনিকের আয়োজন করি। পোয়ান ও লোঝান গ্রামের দুটি জায়গায় এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা নদীর ধারে জমে থাকা বর্জ্যের ছবি ও ভিডিও তোলেন। সেগুলি একত্র করে তৈরি করা হয় একটি ‘দৃশ্যমান দূষণ মানচিত্র’। তরুণদের তৈরি ৩০টি বিষয়বস্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যাতে আরও বেশি মানুষের নজরে সমস্যাটি আসে।
সবশেষে আমরা একটি অনলাইন পিটিশন চালু করি। এর মাধ্যমে মালিক পুরসভার কাছে পরিচ্ছন্নতার কাজ আরও জোরদার করার দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি পুরসভা ও স্থানীয় মানুষের যৌথ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনশিক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হবে।
আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য পিটিশনটি চেঞ্জ ডট অর্গে প্রকাশ করা হয়। এখনও পর্যন্ত ৫০৬ জন এতে স্বাক্ষর করেছেন, যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আলবেনিয়ার পোয়ানে ডিজিঅ্যাকশন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: কেন্দ্র কাজুস। অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত।
গভো: এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ আপনাদের উদ্যোগের সুবিধাভোগী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর কী প্রভাব ফেলেছে? কয়েকটি উদাহরণ দেবেন?
ধো. সে.: তরুণদের কাছে এই প্রকল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধারণাটাই বদলে দিয়েছে। আগে যা ছিল মূলত বিনোদনের মাধ্যম, এখন সেটিকেই তাঁরা নানা সমস্যা তুলে ধরার ও পদক্ষেপ নেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখতে শিখেছেন। ৪৪ জন তরুণ পরিবেশগত সমস্যা কীভাবে নথিবদ্ধ করতে হয় এবং সেগুলি কীভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরতে হয়, তা শিখেছেন।
প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের কাজে অংশ নেওয়া ইগলি নামে এক তরুণের কথায়, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এভাবে ব্যবহার করা যায়, তা আগে কখনও ভাবিনি। এখন কী ধরনের পোস্ট করতে পারি, সে বিষয়ে আমার ভাবনাচিন্তাই বদলে গেছে।”
স্থানীয় মানুষের কাছেও দূষণের ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ডিজিটাল পিকনিকের মাধ্যমে নদীর ধারে জমে থাকা বর্জ্যের ছবি ও ভিডিও সকলের সামনে এসেছে। অনলাইনে আমাদের প্রকাশিত বিষয়বস্তুতে শত শত মানুষ সাড়া দিয়েছেন।
পিটিশনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকেরা সহজেই নিজেদের প্রতিবাদ জানাতে পেরেছেন। অনলাইনে ৫০৬ জন এতে স্বাক্ষর করেছেন। এই ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ এখন একটি উন্মুক্ত সংগ্রহশালার অংশ। ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার সময় এলাকার মানুষ এগুলি কাজে লাগাতে পারবেন।
গভো: প্রকল্পে অংশগ্রহণের ফলে ডিজিটাল গণতন্ত্র ও নাগরিক পরিসর সম্পর্কে আপনাদের নিজেদের জ্ঞান, সচেতনতা এবং অভিজ্ঞতায় কী পরিবর্তন এসেছে?
ধো. সে.: ডিজিটাল স্পার্কসের মাধ্যমে ডিজিটাল গণতন্ত্রের ধারণাটি আমাদের কাছে আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও নথিবদ্ধ করা, মানুষকে একজোট করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি দাবি করাও ডিজিটাল গণতন্ত্রের অংশ।
আমরা শিখেছি, একটি ভিডিও, পোস্টার কিংবা স্বাক্ষরও নাগরিকদের দাবিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। জনসাধারণের কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও সমস্যা তুলে ধরার সময় এই ধরনের তথ্যপ্রমাণ তাঁদের বক্তব্যের জোর বাড়ায়।
এ ছাড়া প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা, বিষয়বস্তু তৈরির কৌশল, অনলাইনে মন্তব্য সামলানো, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের অ্যানালিটিক্স ব্যবহার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নৈতিকতা সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর মধ্যে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও ছিল।
দলগতভাবে এই প্রকল্প আমাদের শিখিয়েছে, কীভাবে এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে ডিজিটাল নাগরিক উদ্যোগ গড়ে তোলা যায়।
গভো: এই প্রকল্প থেকে সবচেয়ে মূল্যবান কী কী শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন?
ধো. সে.: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলির একটি হল, ডিজিটাল যুগে তরুণদের খুব বেশি প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। বরং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে, নিজেদের দাবি জানাতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তাঁদের দরকার যথাযথ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে তাঁদের মোবাইল ফোন আর সৃজনশীলতাই যথেষ্ট।
দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল পিকনিকের মতো অনানুষ্ঠানিক ও আনন্দদায়ক আয়োজন তরুণদের অংশগ্রহণের পথে বাধা কমায়। মেয়েরা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণরাও এ ধরনের উদ্যোগে সহজে যোগ দিতে পারেন।
শুধু অভিযোগ জানানোর চেয়ে ছবি ও তথ্যপ্রমাণ প্রতিষ্ঠানের উপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই অভিজ্ঞতা আমাদের এটাও শিখিয়েছে যে পরিস্থিতি বুঝে কৌশল বদলানো জরুরি। পিটিশন তৈরির জন্য গুগল ফর্মের বদলে চেঞ্জ ডট অর্গ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত থেকেই বুঝেছি, যাঁদের কাছে পৌঁছতে চাইছি, তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী হাতিয়ার বেছে নিতে হয়।
সবশেষে, প্রতিষ্ঠানের স্তরে পরিবর্তন আনতে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সময় লাগে। মানুষকে একত্রিত করার পাশাপাশি উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়মিত অনুসরণ করাও সমান জরুরি।
গভো: এরপর কী? এই প্রকল্প থেকে অর্জিত শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতা ভবিষ্যতের কাজ এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগাবেন?
ধো. সে.: কেন্দ্র কাজুস ইতিমধ্যেই আরও একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। সেখানে আগের প্রকল্প থেকে অর্জিত জ্ঞানের কিছু অংশ কাজে লাগানো হচ্ছে। এবার বিষয়টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে তরুণেরা কীভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা ও অংশগ্রহণের দাবি জানাতে পারেন, সেই দিকেই আমরা নজর দিচ্ছি।
আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, তরুণদের কাছে পৌঁছনোর জন্য নতুন ও ভিন্ন পদ্ধতি খুঁজে বের করা। তাঁরা দিনের অনেকটা সময় যে মাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মগুলিতে কাটান, সেগুলিকেই যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করতে হবে।
তরুণদের আগ্রহের সঙ্গে মানানসই কোনও পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা বিশেষভাবে জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যে শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, নিজেদের দাবি তুলে ধরে বাস্তব পরিবর্তন আনারও একটি কার্যকর উপায়, তা বুঝিয়েই আমরা তাঁদের এই উদ্যোগে যুক্ত করতে পেরেছি।






