প্রতিবাদ গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ও আমাদের হাতে থাকা আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যকার ফারাক কমাতে সাহায্য করে

বিজ্ঞাপন

প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

The pillars of democracy.

ক্যানভা প্রো থেকে সংগৃহীত ছবি।

এই লেখাটি গ্লোবাল ভয়েসেসের সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্পটলাইট সিরিজ “গণতন্ত্রে প্রতিবাদ”-এর অংশ। এই স্পটলাইটের মাধ্যমে আমরা প্রতিবাদের নানা রূপ, সেগুলোকে অবৈধ প্রমাণ ও দমন করতে রাষ্ট্রের কৌশল এবং প্রতিবাদ ও গণতন্ত্রের মধ্যকার জটিল সম্পর্ক খুঁজে দেখতে চাই। আপনি এখানে অনুদান দিয়ে এই কাজে সহায়তা করতে পারেন।

গণতন্ত্রকে প্রায়ই প্রতিনিধিত্ব ও আলোচনার একটি সুশৃঙ্খল, কাঠামোগত ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা কৃত্রিম-ধ্রুপদী স্থাপত্যের সাংগঠনিক রূপের মতো বর্ণহীন ও রৈখিক। বহু গণতান্ত্রিক দেশ তাদের সরকারি ভবনের জন্য এই ধরণের স্থাপত্যশৈলী বেছে নেয়। ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি আসে, বিতর্কের পর আইন পাস হয় এবং অংশগ্রহণ রূপ নেয় নতুন পদক্ষেপে, ঠিক যেমন স্তম্ভগুলো একটি চূড়ার দিকে এগিয়ে যায়।

তবে গণতন্ত্র আসলে কেবল আরামদায়ক বিতর্ক সভা বা রাজনৈতিক বক্তৃতার বিষয় নয়, কিংবা শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। গণতন্ত্রের অর্থ জনগণের শাসন। অথচ আজ যেসব ব্যবস্থাকে আমরা গণতন্ত্র বলি, তার বেশিরভাগেই জনগণের ভূমিকা মূলত ভোটদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেটিও প্রায়ই একটি সংকুচিত, কঠিন ও সীমিত ভোটাধিকার, যা জবাবদিহিতা বা নির্দিষ্ট বিষয়ে পছন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না।

বিজ্ঞাপন

গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ও আমাদের হাতে থাকা আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যকার ফারাক পূরণের একটি উপায় প্রতিবাদ। প্রতিবাদের মাধ্যমে জনগণ সাধারণ আবেগীয় প্রতিক্রিয়া অথবা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট নীতিগত প্রস্তাব প্রকাশ করতে পারে। আমরা নির্বাচনী চক্রের দীর্ঘ বিরতিগুলোকে কাজে লাগিয়ে ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকেও সরকারকে প্রভাবিত করতে পারি। আর সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ঐক্য এবং সংহতি গড়ে তুলি, যা আমাদের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব সম্পর্কে একটি সম্মিলিত চেতনার জন্ম দেয়।

ভোটদান একটি একক, সুনির্দিষ্ট ও মোটামুটি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন কাজ। অন্যদিকে প্রতিবাদ ডজন ডজন বা শত শত বৈচিত্র্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে আমাদের তথা জনগণের ভেতরের সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এই স্পটলাইটের অন্যতম একটি চমৎকার দিক হলো মানুষের সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী শক্তির সেই নিখাদ পরিধিকে প্রত্যক্ষ করা, যেখানে তারা অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে, ক্ষোভ বা সংকল্প প্রকাশ করতে এবং সরকার ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে প্রতিবাদকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই স্পটলাইটের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণটি সম্ভবত প্রতিবাদী গান সংক্রান্ত যৌথ নিবন্ধটির মধ্যেই রয়েছে। এতে শুধু ভিন্ন ভিন্ন গানের উদাহরণই দেওয়া হয়নি, বরং গান ব্যবহারের বিভিন্ন শৈলী, দৃষ্টিভঙ্গি এবং এমনকি অধিকার আদায়ে সংগীতকে কাজে লাগানোর প্রকৃত অর্থ কী, তা-ও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জাপানে তরুণরা প্ল্যাকার্ড বিতরণের মতো নাগরিক সক্রিয়তার নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলনের একদম শুরু থেকেই তরুণদের সংগঠিত করতে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক মিম এবং অনলাইন রসিকতাকে কাজে লাগাচ্ছে।

তীব্র নিপীড়নের ক্ষেত্রে আরও বেশি সৃজনশীলতার প্রয়োজন হয়, যেমন রাশিয়ায় পথশিল্পের বিবর্তন নিয়ে লেখা এই নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে, অনেক নির্বাসিত রাশিয়ান তাদের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে অনলাইন ভিডিওগুলোতে পরোক্ষ ইঙ্গিত এবং শব্দের চাতুর্যপূর্ণ ব্যবহার করেছিলেন।

যা এই লেখাটিতে নিপুণভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রশ্ন ওঠে যে, অনলাইন ও অফলাইন প্রতিবাদ সমানভাবে কার্যকর কিনা এবং তাদের ভিন্ন ভিন্ন শক্তি ও দুর্বলতাগুলো কী কী। তাছাড়া, ডিজিটাল দুনিয়া যেমন প্রতিবাদের নতুন নতুন পথ তৈরি করেছে, ঠিক তেমনি তা দমন-পীড়নেরও নতুন নতুন উপায় সচল করেছে। আফ্রিকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী নিবন্ধ তৈরি করেছে আমাদের বন্ধুপ্রতিম সংস্থা র‌্যাংকিং ডিজিটাল রাইটস। অ্যালগরিদমওয়াচের এই প্রতিবেদনে জর্জিয়ায় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত রুশ নজরদারি সফটওয়্যারের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আর ভার্চুয়াল জগৎকে প্রতিবাদের শক্তি ছিনতাই, দুর্বল বা ভিন্ন দিকে চালিত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমনটি রোমানিয়ার ফাঙ্কি সিটিজেনস-এর এই কেস স্টাডিতে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবাদগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যতই প্রাণবন্ত হোক না কেন, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং ভালো-মন্দ উভয় পরিণতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা জরুরি। দুই বছর আগে বাংলাদেশের প্রতিবাদ সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে সফল হয়েছিল। এই নিবন্ধে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, সেই সরকার-বদল গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে কোনো অর্থবহ পরিবর্তন এনেছে কি না। আর নেপালের এই প্রভাবশালী প্রতিবেদনটিতে গত বছর সেখানকার জেন জি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক আঘাত ও মানসিক আঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

আমাদের অন্যান্য সকল মাসিক স্পটলাইটের মতো এবারের আয়োজনের উদ্দেশ্য আমাদের দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক অভিন্নতার জায়গাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যতিক্রমগুলো দেখানো, যা আমাদের নতুন ধারণার দ্বার উন্মোচন করতে পারে অথবা ভিন্ন ধরনের কাজে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তাই এই স্পটলাইটটি নিজেই এক ধরনের প্রতিবাদ: এটি পুনর্ব্যক্ত করার একটি উপায় যে প্রতিবাদ বৈধ, গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সর্বত্র বিদ্যমান।

(English) ভাষায় লিখেছেন Malka Older
(বাংলা) ভাষায় অনুবাদ করেছেন মাসুদুল জারিফ
মূল লেখাটি দেখুন (English)