চার ঋতুর উত্তর কিভু: দুই বর্ষা ও সংক্ষিপ্ত দুই শুষ্ক মৌসুম

বিজ্ঞাপন

প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

A maize variety exhibition.

ভুট্টার জাত প্রদর্শনী। ছবি: হার্ভে মুকুলু, গ্রিনআফিয়া থেকে, অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত।

পুলিৎজার সেন্টারের সহায়তায় হার্ভে মুকুলুর লেখা এই প্রতিবেদনটি ২০১৫ সালের ১৬ নভেম্বর প্রথম প্রকাশিত হয় সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইসিকঙ্গোতে (Icicongo)। ইসিকঙ্গোর সাথে অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় প্রতিবেদনটি পুনঃপ্রকাশ করেছে গ্লোবাল ভয়েসেস।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ উত্তর কিভুতে, যেখানে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের চাষাবাদ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে কৃষকদের।

এই ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত জলবায়ুর কারণে সংক্ষিপ্ত মৌসুম, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বর্ষণ কৃষকদের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ভারী বর্ষণ বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ২০১২ সালের জিও-ইকো-ট্রপ গবেষণা সাময়িকীর তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ১,৫০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি রয়েছে, তবে দৈনিক গড় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে (+০.১ মিলিমিটার/দিন)।  ফলে, বছরে ১০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত গড়ে প্রায় তিন দিন করে বেড়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকাল ৯ মাস থেকে কমে ৭ মাসে নেমে এসেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও হুমকির মুখে ফেলছে।

বিজ্ঞাপন

একই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বন্যার মূল কারণ হলো দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন। তাই নগর পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত অবকাঠামো নির্মাণ এখন অত্যন্ত অপরিহার্য। এই পরিস্থিতির আলোকে, বিজ্ঞানীরা খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম এমন চাষাবাদ পদ্ধতি, জলবায়ু-সহনশীল বীজ এবং কৃষি-বনায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বৃষ্টিনির্ভর চাষাবাদ

উন্নয়ন সূচক বিশ্লেষণ ইউনিটের (সিএআইডি) তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কিভুতে চারটি ঋতু রয়েছে: দুটি বর্ষাকাল (আগস্টের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি) এবং দুটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শুষ্ক ঋতু (জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি)।

কৃষি প্রকৌশলী ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মুলোন্দি গ্লোয়ার বলেছেন, বছরের কৃষি কার্যক্রম দুটি চাষের মৌসুমে বিভক্ত: মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সংক্ষিপ্ত মৌসুম এবং অন্যটি আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ মৌসুম। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ফসলের ভালো ফলন কীভাবে সরাসরি বৃষ্টিপাতের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে:

Notre agriculture reste familiale, de petite échelle, et dépend entièrement des saisons de pluie.

আমাদের চাষাবাদ এখনো পারিবারিক ও ক্ষুদ্র পরিসরেই রয়ে গেছে এবং এটি পুরোপুরি বর্ষা মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল।

সর্বোপরি, এই নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য যে সেচ ব্যবস্থার প্রয়োজন, তা এখনো বিরল। আর্থিক ও প্রযুক্তিগত মাধ্যমের অভাব এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে অনেক কৃষক এখনো ‘বৃষ্টির ওপর ভরসা করেই’ চাষাবাদ করছেন।

গ্রাবেনের অ্যাগ্রোনমিক অ্যান্ড ভেটেরিনারি রিসার্চ সেন্টারের (সিইআরএভিইজি) পরিচালক এবং কৃষি বিজ্ঞানের অধ্যাপক চার্লস ভালিমুনজিঘা বলেন, বৈপরীত্যটি অত্যন্ত স্পষ্ট:

L’eau n’est pas absente : rivières, ruisseaux et nappes souterraines abondent. Le problème, c’est notre incapacité à la capter et à la gérer.

এখানে পানির কোনো অভাব নেই। নদী, জলধারা এবং ভূগর্ভস্থ পানি উপচে পড়ছে। আসল সমস্যা হলো, এই পানি ধরে রাখা এবং ব্যবস্থাপনায় আমাদের অক্ষমতা।

এনজাইমস রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইএনআরএ বেনি), এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ভেটেরিনারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট অব বুটেম্বো (আইটিএভি বুটেম্বো) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এগ্রোনমিক রিসার্চ (আইএনইএরএ ইয়াঙ্গাম্বি) কর্তৃক সংগৃহীত জলবায়ু সংক্রান্ত উপাত্ত বৃষ্টিপাতের হার পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

La quantité annuelle évolue peu, mais leur intensité augmente. Des épisodes extrêmes (grêle, orages violents) frappent plus souvent, parfois en pleine période censée être sèche et détruisent les semis cultures.

যদিও বার্ষিক বৃষ্টিপাতের সামগ্রিক পরিমাণে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি, তবে এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে। চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া (শিলাবৃষ্টি, তীব্র বজ্রঝড়) এখন আগের চেয়ে ঘন ঘন ঘটছে, যার বেশিরভাগই হচ্ছে শুষ্ক মৌসুমে। এর ফলে বীজতলা এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের এই তারতম্যের পাশাপাশি আরেকটি বড় বাধা হলো পুরোনো ও কম ফলনশীল বীজ, যা এখনো যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করে  চাষ করা হচ্ছে। তবে কৃষক, এনজিও, গবেষণা কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিতে সাড়া দিয়েছে এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে।

এই অস্থির আবহাওয়া রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাবকেও ত্বরান্বিত করে, যেমন: মিলডিউ (উদ্ভিদের ক্ষতিসাধনকারী এক ধরনের ক্রিপ্টোগ্যামিক রোগ) এবং ছত্রাকজনিত আক্রমণ, যা ফসলের ফলন কমিয়ে দেয়। গ্লোয়ার মুলোন্দি ব্যাখ্যা করেছেন:

Nous assistons à des manifestations locales du changement climatique global liées à l’augmentation des gaz à effet de serre.

আমরা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় প্রভাব প্রত্যক্ষ করছি।

টেকসই কৃষির উন্নয়ন

উদ্ভিদ গবেষক হেরিটিয়ার এমবুসা বলেন যে সামনের পথটি এখন স্পষ্ট:

…planifier, irriguer et diversifier. Passer d’une agriculture de survie à un système capable d’anticiper et de s’adapter, grâce à la technologie, à la reforestation et à des variétés mieux armées face aux aléas climatiques.

সঠিক পরিকল্পনা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ফসলের বহুমুখীকরণ। আধুনিক প্রযুক্তি, পুনর্বনায়ন এবং আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনধারণের জন্য সাধারণ চাষাবাদ থেকে একটি পূর্বাভাস ও অভিযোজন-সক্ষম কৃষিব্যবস্থার দিকে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ সাহানি ওয়ালেরের মতে, স্থানীয় কৃষিকাজ এখন একটি অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে:

Nous ne pouvons garantir une agriculture durable si nous n’envisageons pas des mécanismes d’adaptation au changement climatique.

যদি আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো বিবেচনা না করি, তবে আমরা টেকসই চাষাবাদ নিশ্চিত করতে পারব না।

একটি নির্ভরযোগ্য কৃষি পঞ্জিকা তৈরির লক্ষ্যে তিনি একটি আঞ্চলিক আবহাওয়া স্টেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গবেষক ব্যাখ্যা করেন যে, তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী গত ৫০ বছরে গড় তাপমাত্রা ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্বল্পস্থায়ী বর্ষা মৌসুমগুলোতে জলবায়ুজনিত বিপর্যয় বেড়েছে।

Si les émissions de gaz à effet de serre se poursuivent, même la petite agriculture, colonne vertébrale de l’économie locale, pourrait disparaître.

যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকে, তবে স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড, এমনকি ক্ষুদ্র চাষাবাদও বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

তাই উৎপাদন সুরক্ষিত রাখতে কৃষি পরিকল্পনায় জলবায়ুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রধান সমন্বয়কারী গ্লোয়ার মুলোন্দি টেকসই চাষাবাদের লক্ষ্যে কৃষি-বনায়ন এবং কৃষি-বাস্তুসংস্থান ভিত্তিক রূপান্তরের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন:

Nous devons adopter des nouvelles pratiques adaptées aux nouvelles réalités climatiques.

নতুন জলবায়ু বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে আমাদের অবশ্যই নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

গ্লোয়ার মুলোন্দি মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং বন উজাড় ও গাছপালা পুড়িয়ে জমি পরিষ্কারের ফলে সৃষ্ট কার্বন নির্গমন কমানোর ওপরও জোর দেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট চিত্র, মাটির মানচিত্র তৈরি এবং ডিজিটাল সরঞ্জামগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আবশ্যক; কারণ “কৃষি-বাস্তুবিদ্যা মূলত উদ্ভিদ, মাটি ও পরিবেশের মধ্যকার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে, যা রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিত করে এবং জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখে।”

(Français) ভাষায় লিখেছেন IciCongo
(English) ভাষায় অনুবাদ করেছেন Laura
(বাংলা) ভাষায় অনুবাদ করেছেন মাসুদুল জারিফ
মূল লেখাটি দেখুন (Français)