জলবায়ু পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী খরা সৃষ্টি করছে এবং মধু উৎপাদনকারী ফুল মেরে ফেলছে, যা মৌমাছিদের তাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

A beehive in the DRC.

ডিআরসি-তে একটি মৌচাক। ইউটিউব থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট ।

২০২৬ সালের ২০ মার্চ এলিশা কিন্দির লেখা এই নিবন্ধটি মূলত ইসিকঙ্গো (Icicongo) প্রকাশ করেছিল। কন্টেন্ট পার্টনারশিপ চুক্তির অংশ হিসেবে গ্লোবাল ভয়েসেস নিবন্ধটি পুনঃপ্রকাশ করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে মানুষ, প্রাণী এবং উদ্ভিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) এই সংকট মৌচাকগুলোকে মধুশূন্য করে দিচ্ছে, যা এই দেশ এবং সামগ্রিকভাবে পুরো মহাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ উত্তর কিভুর বুতেম্বো শহরে জলবায়ু সংকট সরাসরি মৌচাষ খাতের ওপর আঘাত হেনেছে। বর্তমানে মৌচাকগুলোতে খুব সামান্যই মধু জমছে এবং গাছগুলোতে ফুল না ফুটায় মধুর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে; যা মৌচাষিদের এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

বুতেম্বো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এনদান্দো (Ndando) এলাকাটি একসময় মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর থাকত। এখন সেখানে কেবলই নীরবতা। এই অঞ্চলের সুপরিচিত মৌচাষি মোয়ানজি জেফানি আপাদমস্তক মৌমাছি চাষের সুরক্ষামূলক পোশাক পরে এক হাতে মধু সংগ্রহের ছুরি ও বালতি এবং অন্য হাতে ধোঁয়া দেওয়ার যন্ত্র নিয়ে তার মৌচাকগুলো ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন।

An example beekeeping suit.

মৌমাছি চাষের সুরক্ষামূলক পোশাকের একটি উদাহরণ, যেমনটি মোয়ানজি জেফানি পরে থাকেন। ইউটিউব থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

তবে প্রথম মৌচাকটি ফাঁকা, একইভাবে দ্বিতীয় এবং এর পরেরগুলোও খালি পড়ে আছে, যা মৌচাষিকে পুরোপুরি হতাশ করে তুলেছে:

C’est la première année que cela se produit, à cause du dérèglement climatique. Avant, le miel était abondant, surtout à partir du quatrième mois de l’année jusqu’au mois de juillet. Mais cette année, tout a changé. Des insectes inconnus attaquent les ruches et certaines abeilles finissent par s’en aller. Conséquences : le miel devient de plus en plus rare.

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারই প্রথম এমনটি ঘটল। আগে বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে প্রচুর মধু পাওয়া যেত। কিন্তু এ বছর সবকিছু বদলে গেছে। অজানা কিছু পোকামাকড় মৌচাকগুলোতে আক্রমণ করছে এবং কিছু মৌমাছি চলে যাচ্ছে। ফলে মধু দিন দিন আরও দুর্লভ হয়ে উঠছে।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মোয়ানজি জেফানি দশটির মতো মৌচাক রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। এই পেশা থেকেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন এবং নিজের কাজ নিয়ে গর্ব বোধ করেন। এটি তাকে একটি নিজস্ব আত্মপরিচয় দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মৌমাছির ঝাঁককে আকর্ষণ করার মতো সেখানে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কোনো ফুল ফুটছে না, মিলছে না মধুও; যা আছে তা হলো অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘমেয়াদি খরা আর অনিশ্চিত জলবায়ুর স্পষ্ট কুপ্রভাব।

হুমকির মুখে মৌচাষ

মধুর উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি বুতেম্বোর স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে যে এক লিটার মধু ৭ মার্কিন ডলারে বিক্রি হতো, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এসে তা ১০ থেকে ১২ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যস্ফীতি সাধারণ ক্রেতাদের এক অসহায় পরিস্থিতিতে ফেলেছে। পুষ্টিগুণ এবং ঔষধি গুণের জন্য পরিচিত মধু এখন সাধারণ মানুষের জন্য একটি বিলাসিতার পণ্যে পরিণত হচ্ছে।

Beekeepers beekeeping in the DRC. Screenshot from YouTube.

কঙ্গোয় (ডিআরসি) মৌচাষিদের কাজ করার দৃশ্য। ইউটিউব চ্যানেল গ্রুপ অ্যাকাডেমিয়া আরডি কঙ্গো-এর ভিডিও “রিকোল্তে ডিআরসি সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, পর্ব ২” থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।

এই অঞ্চলে মৌমাছি পালন ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা অ্যাকাডেমিয়া গ্রুপ-এর বোর্ড প্রেসিডেন্ট ভুস্তাপু মাইকেল জানান:

Le climat ne nous laisse plus le choix.

জলবায়ু আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প রাখেনি।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একটি জরুরি পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন:

Nous assistons à la disparition progressive des fleurs mellifères. Si rien n’est fait, l’apiculture va disparaître. Il est urgent de repenser nos pratiques et de préparer les producteurs aux exigences du climat actuel.

আমরা মধুসমৃদ্ধ ফুলগুলোর ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সাক্ষী হচ্ছি। যদি এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে মৌচাষ শিল্পই একসময় হারিয়ে যাবে। জলবায়ুর বর্তমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমাদের কাজের ধরন নতুন করে সাজাতে হবে এবং উৎপাদকদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।

মাইকেলের মতে, যেসব সংস্থা এবং এনজিও এই পরিস্থিতিতে সাহায্য করতে পারত, তারা নিজেরাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেছেন:

Aujourd’hui les pépinières forestières sont aussi affectées. Mais les formations sur le changement climatique coûtent de plus en plus cher, et les sensibilisations sur cette question demeurent insuffisantes.

আজকাল বনের নার্সারিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের খরচ ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে এবং জলবায়ু সচেতনতা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

পরিবর্তিত জলবায়ু চক্রের সাথে অভিযোজন

এই সংকট সত্ত্বেও, ভুস্তাপু মাইকেল বিশেষ করে ক্যালিয়ান্দ্রা (calliandra), গ্রেভিলিয়া (grevillea) এবং ইউক্যালিপটাস (eucalyptus)-এর মতো মধু উৎপাদনকারী গাছ রোপণের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট বনায়নের সুপারিশ করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন:

Ces arbres résistent mieux aux variations climatiques et fournissent un nectar régulier.

এসব বৃক্ষ প্রজাতি পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং নিয়মিত মধু সরবরাহ করে।

তাই, এই পরিবেশবিদ স্থানীয় মৌচাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে মৌচাষের প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করেছেন এবং তিনি মনে করেন, প্রথাগত মৌচাকগুলো জলবায়ুগত বিপর্যয় মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে কম সহনশীল।

Les ruches modernes protègent mieux les colonies d’abeilles et améliorent la production. Les apiculteurs doivent se conformer aux cycles climatiques plutôt qu’aux saisons habituelles, afin d’éviter des pertes inutiles.

আধুনিক মৌচাকগুলো মৌমাছির ঝাঁককে আরও ভালোভাবে রক্ষা করে এবং মধুর উৎপাদন বাড়ায়। অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি এড়াতে মৌচাষিদের এখন প্রথাগত ঋতুচক্রের ওপর নির্ভর না করে পরিবর্তিত জলবায়ু চক্রের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে তিনি বন নিধন রোধ, জুম চাষ সীমিত করা, জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় বৃক্ষ প্রজাতি রক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইসিকঙ্গোতে আরও পড়ুন: কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে মধু নিয়ে যখন শোরগোল

তবে জ্বালানি কাঠ, ইমারতি কাঠ এবং নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা মেটাতে এই অঞ্চলে থাকা প্রচুর ইউক্যালিপটাস গাছ দিন দিন আরও বেশি হারে কেটে ফেলা হচ্ছে।

বুতেম্বোতে (উত্তর কিভু) অবস্থিত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব গ্রাবেন -এর কৃষিবিদ্যা অনুষদের প্রভাষক ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ গ্লোয়ার মুলোন্দি ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে এই পরিস্থিতিগুলো একে অপরের সাথে সম্পর্কিত।

Cette coupe massive prive également les abeilles d’une ressource essentielle : le nectar.

ব্যাপক হারে বন উজাড়ের কারণে মৌমাছিরা তাদের একটি অপরিহার্য উপাদান মধু থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি উত্তর কিভুর সশস্ত্র সংঘাতগুলো মধু উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে এবং ব্যাপক মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য করেছে। একজন উৎপাদকের মতে, এটি এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। চলমান সহিংসতার কারণে নিজেদের নিরাপত্তার আশঙ্কায় মৌচাষিরা স্বাধীনভাবে সেসব উৎপাদন এলাকায় যেতে পারছেন না।

আমাদের বিশেষ কাভারেজটি পড়ুন: ডিআরসি: সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও দরিদ্র

(Français) ভাষায় লিখেছেন IciCongo
(English) ভাষায় অনুবাদ করেছেন Laura
(বাংলা) ভাষায় অনুবাদ করেছেন মাসুদুল জারিফ
মূল লেখাটি দেখুন (Français)