সংকলনে স্থান পেয়েছে ১০ জন কবির ২৩টি কবিতা।

বিজ্ঞাপন

প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

Sombra y Luz

ছবি ভোসেস দেল আলমার ফেসবুক পেজ থেকে। অনুমতি নিয়ে প্রকাশিত।

ফিলিপাইনের ১৭০টি ভাষার মধ্যে একটি চাভাকানো। দেশটির দক্ষিণতম শহর জাম্বোয়াঙ্গায় বহুল প্রচলিত এই ভাষাটি এশিয়ার একমাত্র স্প্যানিশ-ভিত্তিক ক্রেওল ভাষা। এই ভাষাতেই কবিতা লিখেছেন ১০ জন কবি। তাঁদের ২৩টি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এক নতুন কাব্যসংকলন।

ফিলিপাইন তিন শতাব্দীরও বেশি সময় স্পেনের উপনিবেশ ছিল। তবে স্প্যানিশ ভাষার ব্যবহার মূলত অভিজাত শ্রেণি, ধর্মযাজক ও ঔপনিবেশিক শাসকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। স্প্যানিশ ভাষার সঙ্গে স্থানীয় ভাষার মিশেলে একটি ক্রেওল ভাষার বিকাশ ঘটেছিল কেবল জাম্বোয়াঙ্গাতেই।

২০১৮ সালে গ্লোবাল ভয়েসেস বিয়েন চাবাকানো ব্লগের কথা তুলে ধরেছিল। ব্লগটি চাভাকানো দে জাম্বোয়াঙ্গা ভাষার প্রচার ও নথিবদ্ধ করার কাজে নিবেদিত। এর প্রতিষ্ঠাতা জেরোম হেরেরা চলতি বছর ভাষাটির সাহিত্যচর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন। তিনি বিভিন্ন লেখককে কবিতা জমা দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সেগুলি একত্র করে একটি কাব্যসংকলন প্রকাশ করা যায়। সেই উদ্যোগেরই পরিণতি ‘সোমব্রা ই লুস’ (ছায়া ও আলো)। জুলাই মাসে প্রকাশিত এই বইয়ে স্থান পেয়েছে ১০ জন কবির ২৩টি কবিতা। ভালোবাসা, পরিবার এবং জাম্বোয়াঙ্গার মানুষের নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতি কবিতাগুলির মূল উপজীব্য।

বিজ্ঞাপন

হেরেরা বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু ভাষা হিসেবে চাভাকানোর নিরন্তর প্রাণবন্ত উপস্থিতিকেই তুলে ধরে না, বরং এই ভাষার বক্তারা কীভাবে নতুন সাহিত্য রচনা করছেন এবং লেখালেখির মধ্য দিয়ে ভাষাটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, সেটিও সামনে আনে।”

তিনি জানান, বইটির শিরোনামে জাম্বোয়াঙ্গা শহরের পরিবর্তনকে ঘিরে এক বৈপরীত্যের ইঙ্গিত রয়েছে। বইয়ের প্রচ্ছদেও ফিরে এসেছে শহরটির অতীতের এক মায়াময় স্মৃতি। একসময় ফুলে ফুলে সাজানো থাকত শহরের পথঘাট।

প্রচ্ছদে আমেরিকান শাসনামলের ধাঁচের একটি রাস্তার বাতিস্তম্ভ রয়েছে, যা জাম্বোয়াঙ্গা বুলেভার্ডের পাশে এখনও দেখা যায়। প্রচ্ছদে বোগেনভেলিয়া ফুলও রয়েছে। বাবার কাছে শুনেছি, জাম্বোয়াঙ্গা যখন ‘সিউদাদ দে ফ্লোরেস’ (ফুলের শহর) নামে পরিচিত ছিল, তখন এই ফুল শহরের সর্বত্র ফুটে থাকত।

সংকলনের একটি কবিতায় কবি জেলিন গনজালেস-বারেদো ফুল ও পাখির ছবি এঁকেছেন। প্রকৃতির এই চেনা সৌন্দর্যেই যেন ধরা পড়েছে শহরটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা।

মাগা পাহারো কে তা ভোলা-ভোলা,
না মাগা রামা দে পোনো তা কেদা,
আলেগ্রে কন উনো ই অত্রো তা গ্রিতা-গ্রিতা,
টুইট! টুইট! টুইট! এন্তেরো এল দিয়া।

মিও পুয়েবলো সিউদাদ দে জাম্বোয়াঙ্গা,
সিউদাদ দে ফ্লোরেস কে ইয়ামা।
দে নোচে মুচো পাহারো আই কোলুম্ব্রা,
না মাগা কাবলে দে কোরিয়েন্তে তা এস্তা।

ডানা মেলে পাখিরা ওড়ে নীল আকাশের বুকে,
দিনের শেষে গাছের ডালে ফেরে আপন সুখে।
কিচিরমিচির মিষ্টি সুরে ডাকে অবিরাম,
তাদের গানে সকাল জাগে, ভরে ওঠে প্রাণ।

ও আমার জাম্বোয়াঙ্গা, প্রিয় শহরখানি,
‘ফুলের শহর’ নামটি তোমার সবার মুখে জানি।
রাতের বেলা পাখিরা ফেরে বিদ্যুতের তারের কোলে,
নীরব রাতে বসে থাকে আপন মনের ছলে।

গ্লোবাল ভয়েসেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেরেরা সংকলনের কবিতাগুলিতে স্প্যানিশ শব্দের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে কথা বলেন:

“চাভাকানো ভাষার কবিতা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ কবিতায় প্রচুর স্প্যানিশ শব্দ পছন্দ করেন, আবার কেউ চান, দৈনন্দিন কথোপকথনে চাভাকানো যেভাবে ব্যবহৃত হয়, কবিতাও ঠিক তেমনই হোক। জমা পড়া অধিকাংশ কবিতাতেই স্প্যানিশ শব্দের ব্যবহার ছিল বেশি। আমার মনে হয়, এর প্রধান কারণ হলো, চাভাকানো ভাষার লেখকেরা তাঁদের লেখাকে আরও আনুষ্ঠানিক ও কাব্যিক করে তুলতে স্প্যানিশ শব্দের ওপর নির্ভর করেন। যেহেতু এটি কবিতার সংকলন, তাই চাভাকানো ভাষার এমন একটি আদর্শায়িত রূপ তুলে ধরায় আমার আপত্তি ছিল না।”

হেরেরার কথায়, চাভাকানো ভাষার নানা রকম ব্যবহারকে আরও বেশি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলাও এই সংকলনের অন্যতম লক্ষ্য।

“দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ চাভাকানো ভাষাকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রেখেছে। আমার আশা, এই বইগুলি চাভাকানো সাহিত্য নিয়ে নতুন আলোচনার পথ খুলে দেবে এবং এই ভাষায় লেখার নানা রীতির প্রতি মানুষকে আরও গ্রহণশীল করে তুলবে।”

‘এসক্রিবি চাভাকানো, কনভেরসা চাবাকানো’ (চাভাকানো লেখো, চাবাকানোয় কথা বলো) কবিতাটিতেও এই ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে। কবিতাটি চাভাকানোকে এমন এক জীবন্ত ভাষা হিসেবে তুলে ধরে, যা লেখা ও কথার মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকে।

কবিতা, প্রবন্ধ, উপকথা এবং প্রবীণদের মুখে মুখে বয়ে আসা গল্পের উল্লেখের মধ্য দিয়ে কবি পাঠকদের মনে করিয়ে দেন, লেখায়, কথায় এবং একে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি ভাষা বেঁচে থাকে ও বিকশিত হয়।

কবিতাটির শিরোনামেও রয়েছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক। এখানে চাভাকানো ও চাবাকানো, ভাষাটির দুটি স্বীকৃত বানানই ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কবিতাটি ভাষাটিকে সংরক্ষণের গুরুত্বের পাশাপাশি তার লিখিত ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকেও উদ্‌যাপন করে।

অ্যাসিম্পটোট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেরেরা জানান, চাভাকানো ভাষায় লেখেন এমন কবিদের খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তবু তাঁর আশা, এই কাব্যসংকলন ভবিষ্যতে আরও সাহিত্যিক উদ্যোগের সূচনা করবে।

“সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, কারণ চাভাকানো ভাষায় কবি খুঁজে পাওয়া কঠিন। তা সত্ত্বেও আমার আশা, এই সংকলনটি কেবল শুরু। ভবিষ্যতে আমরা এর দ্বিতীয় খণ্ডও প্রকাশ করতে পারব।”

(English) ভাষায় লিখেছেন Mong Palatino
(বাংলা) ভাষায় অনুবাদ করেছেন সৌম্যদীপ দেওয়ানজী
মূল লেখাটি দেখুন (English)