বর্জ্যকে সহনশীলতা, সৃজনশীলতা ও জলবায়ু সমাধানে রূপান্তর করছে মোজাম্বিকের জনগোষ্ঠী

বিজ্ঞাপন

প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

A mountain of plastic in Indonesia.

ইন্দোনেশিয়ার বান্তেনে প্লাস্টিকের পাহাড়। ছবিটি তুলেছেন টম ফিস্ক। পিক্সেলস লাইসেন্স এর অধীনে ব্যবহৃত।

এই লেখাটি গ্লোবাল ভয়েসেসের মে ২০২৬ স্পটলাইট সিরিজ “বৈশ্বিক সংকট, স্থানীয় সমাধান”-এর অংশ। এই সিরিজে থাকবে প্রতিরোধ ও সফল জলবায়ু পদক্ষেপের গল্প, বৈশ্বিক দক্ষিণের জনগোষ্ঠী কীভাবে সংকটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর তাৎপর্য নিয়ে বিশ্লেষণসহ আরও অনেক কিছু। আপনি এখানে অনুদান দিয়ে এই কাজে সহায়তা করতে পারেন।

দ্রুত নগরায়ন, ভঙ্গুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তরুণদের বেকারত্ব ও ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে মোজাম্বিকের শিল্পী, কর্মী, সংগীতশিল্পী ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা পরিবেশ সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব সমাধান গড়ে তুলছেন। পুনর্ব্যবহার, শিল্প, সংগীত ও পরিবেশ শিক্ষার মাধ্যমে তাঁরা আবর্জনা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে চান এবং তাঁরা দেখাতে চান, ফেলে দেওয়া জিনিসও বেঁচে থাকার উপায়, শৈল্পিক অভিব্যক্তি, সামাজিক সমালোচনা ও জলবায়ু প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

মাপুতোর মতো শহরে কঠিন বর্জ্য এখন নগর-দৃশ্যের চোখে পড়ার মতো অংশ হয়ে উঠেছে। ভারী বৃষ্টির সময় প্লাস্টিকের বোতল নর্দমা আটকে দেয়, ব্যবহৃত টায়ার জমা হয় কনটেইনার আর ফাঁকা জায়গায়, আর উপকণ্ঠের মহল্লাগুলোতে অপরিকল্পিত আবর্জনার ভাগাড় বাড়তেই থাকে। হুলেনে আবর্জনার ভাগাড়ে মানুষ যেন একেবারে ভিন্ন এক জগতে বাস করে।

বিজ্ঞাপন

পৌর কর্তৃপক্ষের চেষ্টা সত্ত্বেও বেশ কিছু শহুরে এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এখনো অপ্রতুল। এমন বাস্তবতায় পরিবেশগত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাগুলো একযোগে মোকাবেলা করার বিকল্প হিসেবে ইকোপয়েন্টসের মতো সামাজিক উদ্যোগগুলো গড়ে উঠেছে।

পরিত্যক্ত টায়ারেই মিলল নতুন সম্ভাবনা

পরিবেশকর্মী ভানিয়া গনসালোর কাছে টায়ার পুনর্ব্যবহারের শুরুটা ছিল মাপুতোর রাস্তায় প্রতিদিন চোখে পড়া একটি সমস্যার জবাব হিসেবে।

২০১৯ সালে গনসালো বুঝতে পারেন যে, মোজাম্বিকের পরিবেশগত বিতর্ক মূলত প্লাস্টিককে ঘিরে আবর্তিত হলেও টায়ারও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত সমস্যা; তখনই তিনি ফেলে দেওয়া টায়ার পুনর্ব্যবহারের একটি উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।

সেখান থেকে গনসালো আবাসিক এলাকা, সড়ক ও ময়লার কনটেইনার থেকে পরিত্যক্ত টায়ার সংগ্রহ শুরু করেন। সংগ্রহের পর এগুলো ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা ও রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। টায়ার থেকে তৈরি হয় টেবিল, চেয়ার, ফুলদানি, পোষা প্রাণীর ঘর ও অন্যান্য সাজসজ্জার জিনিস। এই প্রক্রিয়ায় মিলেছে সৃজনশীলতা, টেকসই ভাবনা ও উদ্যোক্তাসুলভ মনোভাব। টায়ারের ধরন অনুযায়ী কাপড়, কাঠ, দড়ি, স্পঞ্জ, রং ও অন্যান্য পুনর্ব্যবহৃত উপকরণের সঙ্গে নানা কৌশল কাজে লাগানো হয়।

গনসালোর কাছে প্রকল্পটি শুধু পুনর্ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়। এর উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবেশগত দায়িত্ব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। গ্লোবাল ভয়েসেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:

Queríamos mostrar à sociedade que aquilo que é jogado fora ainda pode ser reutilizado e transformado em algo valioso e em muitos bairros, os pneus são simplesmente queimados ou abandonados. Queríamos mostrar que é possível reutilizá-los sem necessidade de maquinaria cara ou processos industriais.

আমরা মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে ফেলে দেওয়া জিনিসও পুনরায় ব্যবহার করে মূল্যবান কিছুতে পরিণত করা যায়। অথচ অনেক মহল্লায় টায়ার শুধু পুড়িয়ে ফেলা হয় বা ফেলে রাখা হয়। আমরা দেখাতে চেয়েছিলাম যে দামি যন্ত্রপাতি বা শিল্পকারখানার প্রক্রিয়া ছাড়াই এগুলো পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব।

উদ্যোগটি বর্জ্যকে ঘিরে শহুরে বৈষম্যের চিত্রও সামনে আনে। উপকণ্ঠের মহল্লায় ব্যবহৃত টায়ার প্রায়ই অনানুষ্ঠানিকভাবে নতুন কাজে লাগে, যেমন শিশুদের খেলনা, সাময়িক বসার জায়গা বা ছোট কমিউনিটি পার্কের কাঠামো। অন্যদিকে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সেগুলোকে সাধারণত শুধু ব্যবস্থাপনার যোগ্য বর্জ্য হিসেবেই গণ্য করা হয়।

Vânia Gonçalo's sewing workshop in Maputo, Mozambique, in 2021.

২০২১ সালে মোজাম্বিকের মাপুতোয় ভানিয়া গনসালোর সেলাই কর্মশালা। ছবি: হেরমান মাকামো ও তিরসো সিতোয়ে। অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত।

গনসালোর মতে, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার পরিবেশ-সংক্রান্ত জননীতির আলোচনাতেও অবদান রাখতে পারে। পুনর্ব্যবহৃত জিনিস তৈরির পাশাপাশি আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো তরুণদের কঠিন বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার, উদ্যোক্তা হওয়া ও পরিবেশ শিক্ষার প্রশিক্ষণ দেয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন:

Antes de criar políticas sobre pneus, precisamos de mais estudos científicossobre os impactos ambientais desses resíduos. Mas futuramente isso pode influenciar políticas públicas de coleta e reaproveitamento. O trabalho não é apenas ambiental. Também cria oportunidades de renda. Quanto mais pessoas envolvidas na reutilização de resíduos, menos lixo teremos no meio ambiente.

টায়ার নিয়ে নীতি তৈরির আগে এই বর্জ্যের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আমাদের আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা দরকার। তবে ভবিষ্যতে এটি বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের জননীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। কাজটি শুধু পরিবেশের নয়। এতে আয়ের সুযোগও তৈরি হয়। বর্জ্য পুনর্ব্যবহারে যত বেশি মানুষ যুক্ত হবে, পরিবেশে তত কম আবর্জনা থাকবে।

শিল্পকলা, স্মৃতি এবং সামাজিক সমালোচনা

Mudungaze's design workshop in Maputo, Mozambique, in 2021.

২০২১ সালে মোজাম্বিকের মাপুতোয় মুদুঙ্গাজের ডিজাইন কর্মশালা। ছবি: হেরমান মাকামো ও তিরসো সিতোয়ে। অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত।

মোজাম্বিকের শিল্পী মুদুঙ্গাজের কাছে আবর্জনার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও আছে। পরিত্যক্ত শিল্প সামগ্রী, স্ক্র্যাপ ধাতু ও রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসপত্র ব্যবহার করে তিনি আফ্রিকান সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ ও মাপুতোর নগর গতিশীলতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মুখোশ ও সমসাময়িক শিল্পকর্ম তৈরি করেন। “আফ্রিকান মুখোশ” শীর্ষক প্রদর্শনীতে তাঁর শিল্পকর্ম আফ্রিকান পরিচয়, ঔপনিবেশিকতা, সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও বৈশ্বিক বৈষম্য নিয়ে সমসাময়িক চিন্তাভাবনার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে।

মুদুঙ্গাজের মতে, ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক আফ্রিকান সাংস্কৃতিক উপাদান ফিরিয়ে আনার তাগিদ তাঁর অনুপ্রেরণার একটি অংশ। গ্লোবাল ভয়েসেসকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:

Queria trazer a identidade africana para uma arte urbana contemporânea, usando objetos que as pessoas encontram no dia a dia, num contexto em que as pessoas foram e nsinadas durante muito tempo, que muitas práticas culturais africanas foram atrasadas ou inferiores. Hoje várias dessas ideias regressaram do Ocidente como algo moderno.

আমি সমসাময়িক শহুরে শিল্পে আফ্রিকান পরিচয়কে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম, এমন সব জিনিসপত্র ব্যবহারের মাধ্যমে যা মানুষ প্রতিদিনের জীবনে প্রত্যক্ষ করে। এটি এমন একটি প্রেক্ষাপটে, যেখানে মানুষকে দীর্ঘকাল ধরে শেখানো হয়েছে যে অনেক আফ্রিকান সাংস্কৃতিক চর্চায় অনগ্রসর বা নিম্নমানের ছিল। আজ সেই ধারণাগুলোর অনেকটাই পাশ্চাত্য থেকে আধুনিক ধারণা হিসেবে ফিরে এসেছে।

শিল্পীর ব্যবহৃত অনেক উপকরণই বড় বড় কোম্পানির শিল্পবর্জ্য এবং আমদানিকৃত পণ্য থেকে আসে। মুদুঙ্গাজে বলেছেন, তিনি পরিত্যক্ত সামগ্রী পুনর্ব্যবহারের জন্য কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তেমন সাড়া পাননি। পরিত্যক্ত বর্জ্যকে শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করে গ্যালারি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রদর্শনের মাধ্যমে শিল্পী শহুরে বৈষম্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পের অভিজাততন্ত্রের এক সূক্ষ্ম সমালোচনাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “এই বর্জ্যের বেশিরভাগ আমরা তৈরি করি না, অথচ এর পরিবেশগত পরিণতি আমাদেরই ভোগ করতে হয়”

শহরাঞ্চল এবং প্রান্তিক উপশহরের মধ্যকার এই টানাপোড়েন মোজাম্বিকের শিল্পাঙ্গনকেও প্রভাবিত করে। বেশিরভাগ গ্যালারি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো মধ্য মোজাম্বিক এবং রাজধানী মাপুতোতে কেন্দ্রীভূত থাকায় অন্যান্য এলাকার শিল্পী ও দর্শকদের জন্য সেখানে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর বিকল্প হিসেবে, মুদুঙ্গাজে প্রথাগত সাংস্কৃতিক গণ্ডির বাইরে একটি স্বাধীন মাধ্যম তৈরি করেছেন। তার শিল্পকর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের শিল্পকর্মকে ভৌত গ্যালারির বাইরেও দেখানোর সুযোগ দিচ্ছে”

র‌্যাপ সংগীত, পরিবেশবাদী আন্দোলন এবং ডিজিটাল সংহতি

সংগীতেও উঠে আসছে পরিবেশের প্রসঙ্গ। র‍্যাপার ও অ্যাক্টিভিস্ট ওসভালদো ইকো এমসির মতে, হিপ-হপ সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। সমাজসচেতন র‍্যাপ এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সামাজিক সমালোচনা প্রকাশের ঐতিহ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ওসভালদো জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় অনুচিতভাবে বর্জ্য ফেলার পরিমাণ বাড়তে দেখে তাঁর গানের কথায় পরিবেশগত বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করেন।

Room of images by Osvaldo Iko MC in Maputo, Mozambique, in 2021.

২০২১ সালে মোজাম্বিকের মাপুতোয় ওসভালদো ইকো এমসির ছবির কক্ষ। ছবি: হেরমান মাকামো ও তিরসো সিতোয়ে। অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত।

তাঁর গানে প্লাস্টিক দূষণ, ভুল পদ্ধতিতে বর্জ্য নিষ্কাশন, নগর পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত দায়িত্বের মতো বিষয়গুলো উঠে আসে। শিল্পীর মতে, শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা শুধু পরিবেশগত সমস্যাই নয়, সামাজিক বৈষম্য এবং শিক্ষাগত ঘাটতিরও ইঙ্গিত দেয়।

গ্লোবাল ভয়েসেসকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পরিবেশ সংকট একই সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা। পরিবেশগত দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা না হলে এই সমস্যা চলতেই থাকবে। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখা সামাজিক সমস্যা, বৈষম্য এবং সমষ্টিগত দায়িত্ববোধের ব্যর্থতাকেও প্রতিফলিত করে।”

সঙ্গীত, পরিবেশগত প্রচারণা, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণ এবং বর্জ্য মানচিত্রায়ন উদ্যোগের মাধ্যমে ওসভালদো এমন দর্শক-শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে চান, যাঁরা প্রায়শই পরিবেশ বিষয়ক আনুষ্ঠানিক বিতর্ক থেকে অনেক দূরে থাকেন।

তিনি বলেন, “সংগীত সবখানে পৌঁছায় — যানবাহনে, বাজারে, ঘরে ঘরে, রাস্তায়। এটি সচেতনতা তৈরি ও আচরণ বদলাতে সাহায্য করতে পারে।”

ডিজিটাল অ্যাকটিভিজমও তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ছবি, ভূ-অবস্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিবেশকর্মীরা দেশের বিভিন্ন অংশে বর্জ্য জমার স্থান ও পরিবেশগত সমস্যার নথি তৈরি করেছেন। ওসভালদোর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মোজাম্বিকের পরিবেশগত সমস্যাগুলোকে আরও দৃশ্যমান করতে এবং স্থানীয় কর্মীদের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এই র‍্যাপার দাবি করেছেন যে পরিবেশগত দায়িত্ব শুধু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তানো উচিত নয়।

তিনি বলেন, “এই প্রযুক্তিগুলো সম্প্রদায়কে শিক্ষিত করা, নথিভুক্ত করা এবং সংগঠিত করা সম্ভব করে তোলে। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দোষারোপ করার একটি প্রবণতা রয়েছে, কিন্তু পরিবেশগত দায়িত্ব নাগরিকদেরও।”

জলবায়ু পরিবর্তন বনাম নগরবাসীর টিকে থাকার সংগ্রাম

জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার কারণে মোজাম্বিক সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা বিশেষ করে দুর্বল অবকাঠামো এবং সীমিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবাযুক্ত শহরাঞ্চলকে প্রভাবিত করে। মাপুতো, বেইরা ও নামপুলার মতো শহরে ফেলে দেওয়া কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ এত বেশি যে তা নর্দমা আটকে দেয় এবং ভারী বর্ষার সময় বন্যার প্রকোপ বাড়িয়ে তোলে।

অনেক শিল্পী ও সমাজকর্মীর কাছে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কেবল পরিবেশগত বা শৈল্পিক উদ্যোগ নয়। এগুলো টিকে থাকা, জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সম্প্রদায়ের প্রতিরোধেরও কৌশল। স্থিতিশীল তহবিল, প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব থাকা সত্ত্বেও, এই উদ্যোগগুলো সামাজিক যোগাযোগ, সৃজনশীলতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।

বর্জ্যকে শিল্পকর্ম, আসবাবপত্র, শিক্ষামূলক প্রচারণা এবং সামাজিক সংগঠনের হাতিয়ারে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে মোজাম্বিকের সম্প্রদায়গুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে স্থানীয় সমাধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। যে দেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও শহুরে বৈষম্য প্রতিদিনই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, সেখানে আবর্জনা আর শুধু আবর্জনা থাকে না। অনেক তরুণ, শিল্পী ও আন্দোলনকারীর কাছে এটি একটি সম্পদ, প্রতিরোধের হাতিয়ার এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনায় পরিণত হয়েছে।

(Português) ভাষায় লিখেছেন Tirso Sitoe
(English) ভাষায় অনুবাদ করেছেন Liam Anderson
(বাংলা) ভাষায় অনুবাদ করেছেন মাসুদুল জারিফ
মূল লেখাটি দেখুন (Português)