“মানুষের এই নিশ্চয়তা নেই যে তারা বিচার পাবে।”
প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

৪ আগস্ট ২০২৪, ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর উল্লাসে মেতে ওঠেন মানুষ। ছবি: রাফি আল আহনাফ (অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত)।
এই প্রতিবেদনটি গ্লোবাল ভয়েসেস-এর সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্পটলাইট সিরিজ ‘গণতন্ত্রে প্রতিবাদ’ এর অন্তর্ভুক্ত। এই সিরিজে আমরা প্রতিবাদের নানা রূপ, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিবাদকে অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করা বা দমন করার বিভিন্ন কৌশল, এবং প্রতিবাদ ও গণতন্ত্রের মধ্যকার জটিল সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করছি। আমাদের এই কভারেজকে এগিয়ে নিতে চাইলে আপনি এখানে অনুদানের মাধ্যমে গ্লোবাল ভয়েসেসকে সহযোগিতা করতে পারেন।
বাংলাদেশে জনতার সহিংসতার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খানের মতে, জবাবদিহিতার অভাব এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি এই প্রবণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ঢাকাভিত্তিক আইন সহায়তা ও মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে) তাদের মাসিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে জনতার হাতে পিটুনিতে অন্তত ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন। জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং নিজেদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এএসকে এই সংখ্যা তৈরি করেছে।
পাবনায় ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ১০ বছর বয়সী কামরুন্নাহার কলি নিজ গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়। সাত দিন পর তার বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ দুইজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে, ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার করে এবং কারাগারে পাঠায়।
তবে পরদিনই, শত শত মানুষ অভিযুক্তদের একজনের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে এবং বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও এই হামলা ঠেকানো যায়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এত বড় একটি জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো পর্যাপ্ত সদস্য আমাদের ছিল না।” পুলিশ অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র রক্ষা করে। কিন্তু তিনি বলেন, “বাড়ির কাঠামোগত ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।”
একটি বৃহত্তর চিত্র
অধিকার সংগঠনগুলোর নথিতে উঠে আসা বৃহত্তর এক প্রবণতার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানায়, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে সংঘবদ্ধ জনতার চাপ প্রয়োগের ঘটনাও বাড়তে দেখা গেছে। টিআইবির মতে, কিছু ক্ষেত্রে এমন চাপের মুখে দাবিও মেনে নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে টিআইবি জানায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশজুড়ে জনতার সহিংসতার ৬৯ থেকে ৮০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশি সম্প্রচার সাংবাদিক রিফাত আলম রিসানের কাছে, কত দ্রুত একটি জনতা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা কেবল পর্যবেক্ষণের বিষয় নয়, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মী ও তৎকালীন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সংবাদচিত্র সংগ্রহ করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান রিসান। সেখানে সংবাদ সংগ্রহের সময় তার ওপর হামলার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গ্লোবাল ভয়েসেসের সঙ্গে সরাসরি আলাপকালে রিসান জানান, জনতার মধ্যে কেউ একজন তাকে হাদিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করার পর মুহূর্তেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
রিসান বলেন, “কেউ একজন বলল, ‘ও হাদিকে গুলি করেছে, এখন আবার আমাদের ওপর হামলা করতে এসেছে।’ কথাটা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আশপাশে জড়ো হওয়া মানুষ কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই আমার ওপর হামলা শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। একপর্যায়ে আমি রাস্তায় পড়ে যাই। তারা আমার ফোনটাও নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে সেখানে থাকা আরেকজন টেলিভিশন সাংবাদিক ও অন্যান্য সংবাদকর্মী আমাকে উদ্ধার করেন।”
২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ফোনে গ্লোবাল ভয়েসেসের সঙ্গে কথা বলেন আরেক বাংলাদেশি সম্প্রচার সাংবাদিক জামাল রুহানী। জনতা কীভাবে খুব দ্রুত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
রুহানী বলেন, “শুরুতে একজন বা দুজন নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করে। তারা যখন ওই ব্যক্তির ওপর হামলা শুরু করে, তখন আশপাশের আরও অনেকে তাতে যোগ দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “যারা মারধর করে, তাদের অনেকেই জানে না ওই ব্যক্তি আসলেই দোষী কি না। এমনকি যাকে মারধর করা হচ্ছে, সেও হয়তো জানে না তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী। কেউ শুধু বলে, ‘ওকে মারো’, আর তারপরই মারধর শুরু হয়ে যায়।”

২রা আগস্ট ২০২৪, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ঢাকা। এর আগে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা সড়কে আগুন ধরিয়ে দেন। ছবি: রাফি আল আহনাফ (অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত)।
সামাজিক মাধ্যমে উসকানি
সামাজিক মাধ্যম অনেক সময় এই সহিংসতায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় একটি সুফি মাজারে হামলার আগে ইসলাম অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা একটি পুরোনো ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা দৈনিক প্রথম আলো জানায়, ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি তিনটি ফেসবুক পেজ ও চারটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়েছিল। সকাল প্রায় ৯টার দিকে সম্ভাব্য অস্থিরতার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং তারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে ওই দিনই পরে শতাধিক মানুষ মাজারটিতে হামলা চালায়।
মাজারটির আধ্যাত্মিক নেতা আবদুর রহমান, যিনি শামীম আল-জাহাঙ্গীর নামেও পরিচিত ছিলেন, তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা মাজারটিতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
রুহানীর মতে, জনতার সহিংসতা শুধু সামাজিক মাধ্যমনির্ভর নয়।
তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোনো আন্দোলন হলে মানুষ রাস্তায় নামে, সেখানেও জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে। তবে সামাজিক মাধ্যমেরও ভূমিকা আছে। বিশেষ করে ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠা কোনো পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যা পরিস্থিতিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”
পরবর্তী হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। নিহতের ভাই চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৮০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুষ্টিয়া জেলার সাবেক এক সভাপতি, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরও সদস্য; জামায়াতের স্থানীয় এক কর্মী; এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় সভাপতি। তবে জামায়াতের প্রতিনিধিরা তাদের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পরও মামলায় নাম থাকা চার আসামির কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ১ মে নাগাদ হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাবনা ও কুষ্টিয়ার ঘটনা দুটি ভিন্নভাবে ঘটেছিল। পাবনায় পুলিশ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল, তবে তাদের ভাষ্য ছিল, জনতার তুলনায় পুলিশের সদস্যসংখ্যা কম ছিল। অন্যদিকে কুষ্টিয়ায় হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই সম্ভাব্য অস্থিরতার বিষয়ে পুলিশ অবগত হয়েছিল। দুটি ঘটনাই সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা এবং ঘটনার পর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিচার নিশ্চিতকরণে ঘাটতি
রুহানীর মতে, জনতার এমন আচরণের পেছনে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের ধারণাও আংশিকভাবে ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে এই নিশ্চয়তা নেই যে তারা বিচার পাবে। রায় হয়, কিন্তু সব সময় তা কার্যকর হয় না। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াও এর একটি কারণ।”
তবে রুহানীর এই পর্যবেক্ষণ জনতার সহিংসতায় জড়িত সবার আচরণের একমাত্র ব্যাখ্যা নয়। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের অভিযোগ, ধর্ম অবমাননার দাবি এবং নির্দিষ্ট দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা।
পুলিশের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রুহানী।
তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগের মতো পুলিশের মনোবল এখন আর নেই। যেসব এলাকায় জনতার সহিংসতার ঘটনা ঘটে, সেখানেও পুলিশকে অনেক সময় প্রস্তুত দেখা যায় না। সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির অবস্থায় পুলিশকে আমরা দেখি না।”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজপথের আন্দোলনের ওপর নির্ভরতা অবশ্য ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দিয়ে শুরু হয়নি। কয়েক দশক ধরেই সমাবেশ, হরতাল, অবরোধ ও মিছিল দেশের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিসংখ্যানের আর্কাইভে এক দশকেরও বেশি সময় আগের গণপিটুনির ঘটনাও নথিভুক্ত রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আবারও দেখিয়ে দেয়, রাজপথে ব্যাপক জনসমাবেশ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ পরে আরও বিস্তৃত আন্দোলনে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।

১১ জুলাই ২০২৪, শাহবাগ, ঢাকা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি মুহূর্ত। ছবি: সাব্বিরুল ইসলাম (অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত)।
তবে রাজপথের প্রতিবাদ আর জনতার হাতে শাস্তি এক বিষয় নয়। সরকারের প্রতিক্রিয়াতেও এই পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসেই বলেন, জনতার নামে আইন হাতে তুলে নেওয়া সহ্য করা হবে না। তবে আইনসম্মত সভা, সমাবেশ এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক কার্যক্রম চলতে পারবে।
বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (এএসকে) করা একটি জনস্বার্থমূলক রিটের পর ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের হাইকোর্ট সরকারের কাছে জানতে চান, জনতার হাতে হত্যা ও গণপিটুনি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চান আদালত।
এর ছয় মাস পরও সরকারকে প্রকাশ্যে এ সমস্যা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ২৭ আগস্ট সংসদে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনতার সহিংসতার ক্ষেত্রে সরকার “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া বা শারীরিকভাবে আঘাত করা বেআইনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল বাড়ানো, গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশে অধিকার সংগঠনগুলো এখনও এ ধরনের সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করছে, হাইকোর্ট রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, আর সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে হামলা ঠেকাতে এবং গ্রেপ্তারের পর মামলাগুলোকে কার্যকর বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে নিতে কতটা সক্ষম হবে, সেই প্রশ্ন এখনও খোলা।




