“নদীকে তো আর বদলাতে পারি না, থেমে থাকাও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

বাংলাদেশের ঢাকায় তুরাগ নদে নৌকা ও মানুষজন। ছবিটি তুলেছেন ‘ওয়ান্ডারলেন'। ফ্লিকার থেকে নেওয়া। ছবির সূত্র: ওয়ান্ডারলেন। ক্রিয়েটিভ কমন্স ২.০, উল্লেখ-স্বত্ব লাইসেন্সের অধীনে ব্যবহৃত। লাইসেন্সের বিবরণ।
মধ্য বাংলাদেশের যমুনা নদীর বুকে বসবাসকারী যাযাবর বেদে পরিবারগুলির কাছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ানো জীবনেরই অঙ্গ। ২০২৬ সালের মে মাসে ‘কেমব্রিজ প্রিজমস: গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় মধ্য বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার তিনটি যাযাবর জনবসতি, জুগিয়ার চর, পালিমা ও চর নিকরাইলকে নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মৌসুমি বন্যা, নদীভাঙন এবং জীবিকার তাগিদে দর্শক-শ্রোতার সন্ধানে এই পরিবারগুলিকে বছরে বেশ কয়েকবার বাসস্থান বদলাতে হয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীর ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে ওঠা পরিস্থিতি এই সম্প্রদায়গুলিকে স্থলে বসতি গড়তে বাধ্য করছে।
গবেষকেরা বাংলাদেশের ২০২৫ সালের বর্ষাকালে, জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে, ১২টি সাক্ষাৎকার এবং একটি দলগত আলোচনার মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র পরিসরের সমীক্ষাটি চালান। এতে বাস্তুচ্যুতিকে কোনও একটি নির্দিষ্ট ঘটনা হিসেবে নয়, বরং নিরন্তর চলতে থাকা এক পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের এক সম্প্রদায়-প্রধান, যাঁকে বেদে সমাজে ‘সর্দার’ বলা হয়, গবেষকদের বলেন, “নদীকে তো আর বদলাতে পারি না, থেমে থাকাও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
২০২৬ সালের আগস্টে অনলাইনে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সমাজবিজ্ঞান পর্যালোচনা’ সাময়িকীর আরেকটি গবেষণায় মুন্সিগঞ্জের বেদে জনবসতিগুলির ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি ও দুর্যোগের মুখে তাদের অসহায়তার চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি, সরকারি সংস্থা ও ত্রাণকাজে যুক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে সুসংগঠিত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
বেদে কারা?
বেদে একটি ঐতিহ্যবাহী ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশের নদ-নদীকে ঘিরেই তাদের জীবন ও জীবিকা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই তারা প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই সাপ খেলা দেখানো, লোকজ চিকিৎসা, ভেষজ ওষুধ ও তাবিজ বিক্রি এবং পথে পথে নানা ধরনের খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৬৩৮ সালে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের (তৎকালীন আরাকান) নির্বাসিত রাজার সঙ্গে কয়েকটি গোষ্ঠী ঢাকায় এলে বেদে সম্প্রদায়ের শিকড় সেই সময় পর্যন্ত পৌঁছয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বেদে জনগোষ্ঠীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘ক্লাইমেট ওয়াচ’ বিভিন্ন সূত্রের পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী তাঁদের সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার, আবার অন্য কিছু হিসাবে তা প্রায় ৮ লক্ষ।
ঐতিহ্যগতভাবে পরিবারগুলি নৌকার দল বেঁধে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করে। প্রতিটি দলের নেতৃত্বে থাকেন একজন সর্দার। স্থলে থামলে তারা সাধারণত নদীর পাড়ে কিংবা চরে অস্থায়ী শিবির গড়ে তোলে। বড় নদীর বুকে পলি জমে এই চর তৈরি হয়, আবার নদীর স্রোতে তা ভেঙেও যায়।
এই স্থানান্তরকে সাধারণ অভিবাসন বলা যায় না। ‘কেমব্রিজ প্রিজমস: গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ’-এ প্রকাশিত গবেষণার গবেষকেরা এককালীন কোনও ঘটনার কারণে ঘরছাড়া শরণার্থীদের সঙ্গে বেদে পরিবারগুলির পার্থক্য তুলে ধরেছেন। বেদে পরিবারগুলি প্রায় সব সময়ই যাত্রাপথে থাকে, ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল কিংবা স্থায়ী ঠিকানা ধরে কাজ করা সরকারি নথি ব্যবস্থার পক্ষে তাদের কাছে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থলভাগে অভিবাসন
বর্তমানে এই পরিবারগুলির অনেককেই নদীকেন্দ্রিক জীবন ছেড়ে স্থলে চলে এসে বসতি গড়তে হচ্ছে।
সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেকেই নদীকেন্দ্রিক জীবন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বন্যা, নদীভাঙন ও ঝড়ের প্রকোপ বাড়ায় তাঁদের পুরনো বসতিগুলি আর বসবাসের উপযোগী নেই। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, কিছু খাল ও জলপথ শুকিয়ে যাওয়ায় কোনও কোনও অঞ্চলে জলেই বসবাস করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
আয়ের প্রসঙ্গে এক সর্দার জানিয়েছেন, পরিবারগুলি সাধারণত কোনও একটি জায়গায় প্রায় এক মাস থাকে। দর্শক-শ্রোতার আনাগোনা কমে গেলে তারা অন্যত্র চলে যায়। মুন্সিগঞ্জে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের জানিয়েছেন, ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলির চাহিদা কমছে, সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেকে এসব পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন এবং সম্প্রতি সাপ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় তাঁদের আয়ের পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। প্রায় ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা চান না তাঁদের সন্তানরা বংশপরম্পরায় চলে আসা পেশাগুলি গ্রহণ করুক।
স্থলভাগে কাজের সুযোগ প্রসঙ্গে, ২০১৯ সালে ঢাকার কাছে সাভারে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম বেদে জনবসতিগুলির একটির নেতারা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন, দারিদ্র্য এবং নদীর নাব্যতা হারানোর কারণে পরিবারগুলি আর অন্য অঞ্চলে নৌকা নিয়ে যেতে পারছে না। সাপ খেলা দেখানোসহ পুরনো পেশাগুলির প্রতিও মানুষের আগ্রহ কমে আসছে।
বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশন’ প্রায় ২০০ জন তরুণীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাঁরা এখন পোশাক কারখানায় কাজ করেন। উপরে উল্লিখিত দুটি গবেষণাই নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, তাই সব বেদে জনবসতির ক্ষেত্রে এগুলির ফলাফল প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবে আধুনিক জীবনের চাহিদা, পরিবেশগত বাস্তবতা এবং ঐতিহ্যের মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনের ছবিটি এই গবেষণাগুলিতে স্পষ্ট।
স্থায়ী মানুষের জন্য তৈরি পরিষেবা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বেদে পরিবারগুলির অনেকেই ভূমিহীন এবং তাঁদের কাছে নাগরিকত্বের সরকারি নথিপত্র নেই। ফলে সরকারি ত্রাণ ও দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা বাধার মুখে পড়েন।
সমস্যার একটি বড় কারণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা। বাংলাদেশে সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে স্থায়ী ঠিকানা যুক্ত থাকে, অথচ বহু বেদে পরিবারেরই কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। ২০২৩ সালে ‘রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট ম্যাগাজিন’ উল্লেখ করেছিল, বেদেরা সাধারণত অস্থায়ী বসতিতে থাকেন এবং “তাঁদের কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই”। ফলে মৌলিক পরিষেবা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করাও তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে সমস্যাটি শুধু নথিপত্রের অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন গবেষক তামান্না তাবাসসুম কবির ২০২০ সালে ‘ইন্দ্রপ্রস্থ ল রিভিউ’-তে লিখেছিলেন, জাতীয় আদমশুমারিতে বেদে সম্প্রদায়কে কোনও জাতিগোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী বাংলাদেশে বসবাস করলেও তাঁদের “সরকারিভাবে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি”।
কবির লিখেছেন, ২০০৮ সালের আগে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে পারতেন না। এর প্রভাব শুধু ভোটাধিকারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা তৈরির সময় সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার জাতীয় পরিচয়পত্র জারি করত। তাই ভোটার তালিকায় নাম ওঠা অন্যান্য সরকারি নথি পাওয়ারও একটি পথ ছিল। কিন্তু সেই পথ এখনও পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। ২০১৯ সালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ফিলিপ গেইন জানিয়েছিলেন, বহু বেদে পরিবারেরই কোনও জমি বা বাড়ি নেই, যেখানে তাঁদের ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত করা সম্ভব।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং রাষ্ট্রসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইস্ক্যাপ)-এর ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু এবং সম্প্রতি বাসস্থান বদলেছে এমন পরিবারের শিশুরাই জন্মনিবন্ধনের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীগুলির অন্যতম।
রাষ্ট্রসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ঢাকার পূর্বাঞ্চলের আফতাবনগরের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেছে। ২০২৩ সালে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে স্থানীয় বেদে সম্প্রদায়ের মেয়েদের জন্মসনদ না থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা যাচ্ছিল না। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিযুক্ত টিকাদানকর্মী কামরুন নাহার সম্প্রদায়ের নেতা ও পরিবারগুলির আস্থা অর্জন করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। সবাই বাড়িতে থাকেন, এমন রাতে তিনি তাঁদের কাছে যেতেন। শেষ পর্যন্ত মেয়েদের নাম হাতে লিখে নথিভুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইউনিসেফ জানিয়েছিল, ওই সম্প্রদায়ের ২৪ জন মেয়েই এক দিনে টিকা পেয়েছিল।
কিছু স্কুলও পরিবারগুলির সঙ্গে সঙ্গে চলার চেষ্টা করেছে। অশোকা ফেলো এ. কে. এম. মাকসুদের অশোকা-র পরিচিতিতে ঢাকার কাছে বেদে নৌবহরের সঙ্গে যাতায়াত করা ছটি ভাসমান স্কুলের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর অলাভজনক সংস্থা গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি আমিনবাজারে একটি স্থায়ী স্কুলও পরিচালনা করে।
শুধু টিকে থাকা নয়, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া
কেমব্রিজের গবেষণায় আরও নথিবদ্ধ করা হয়েছে, কীভাবে পরিবারগুলি স্থানান্তরের পরিস্থিতি সামাল দেয়। নতুন জায়গায় বসতি গড়ার আগে তারা জমির মালিক ও স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করে, আগের যাতায়াতের সুবাদে তৈরি হওয়া পরিচিতি ও সুনামকে কাজে লাগায় এবং নিজেদের মধ্যে খাবার, অর্থ ও যত্ন ভাগ করে নেয়। জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য কী কী সাহায্য তাঁদের কাজে আসবে, জানতে চাইলে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি সাধারণ চাহিদার কথা বলেছেন: বসবাসের জন্য এক টুকরো জমি, কাজের সুযোগ পেতে কিছু সহায়তা, ওষুধ এবং স্কুল। গবেষকদের সুপারিশ, শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্রনির্ভর পরিষেবার বদলে সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্রাম্যমাণ ও স্থানীয় মানুষের চাহিদাভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।
মুন্সিগঞ্জের গবেষণায় সাক্ষাৎকার দেওয়া ৫৫ বছর বয়সি এক বেদে মহিলা জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্ম আর নৌকায় থাকতে চায় না। তাঁদের আশা, শিক্ষার মাধ্যমে বেদে পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সামাজিক কলঙ্ক দূর করা সম্ভব হবে।
ঢাকার কাছে সাভারের নদীতীরবর্তী বসতিগুলিতে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে এই দৈনন্দিন লড়াইয়ের ছবিই ফুটে উঠেছে। এলাকার এক সম্প্রদায়-প্রধান আলমগীর সর্দার বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষেরা নৌকাতেই জীবন কাটিয়েছেন, নৌকাতেই মারা গিয়েছেন। কিন্তু নদীগুলি আর আগের মতো নেই। স্থলে স্থায়ী ঠিকানা না থাকলে আমাদের সন্তানদের জন্মসনদ হয় না, নিয়মিত স্কুলেও যাওয়া সম্ভব হয় না। স্থলে চলে আসা এখন আর আমাদের কাছে কোনও বিকল্প নয়, বেঁচে থাকার জন্য এটাই একমাত্র পথ।”
অভিভাবকদের কাছে এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে ঐতিহাসিক সামাজিক অবজ্ঞা থেকে সন্তানদের মুক্ত করার আশাও। সাভারের একটি অস্থায়ী স্থলভিত্তিক বসতিতে থাকা মা রাহেলা বেগম বলেন, “আমি কখনও স্কুলে যেতে পারিনি, কারণ আমরা এক নদীর ঘাট থেকে অন্য ঘাটে ঘুরে বেড়াতাম। আমি চাই, আমার সন্তানেরা পড়াশোনা করুক এবং স্থলে সম্মানের সঙ্গে জীবন কাটাক, যাতে আমাদের মতো অসম্মানের মুখে তাদের পড়তে না হয়।”






