গ্রামের দীর্ঘদিনের জলসংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়াই তাঁদের কাছে সবচেয়ে জরুরি।

বিজ্ঞাপন

প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

কাজাখস্তানের কিজিলসাই গ্রামের প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীরা

কাজাখস্তানের কিজিলসাই গ্রামের প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: নাজগুল আইদাবোসিনোভা। অনুমতি নিয়ে প্রকাশিত।

এই সাক্ষাৎকারটি ‘ডিজিটাল স্পার্ক‘ অর্থায়ন প্রকল্পের আওতায় অনুদানপ্রাপ্ত কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ তুলে ধরার একটি বিশেষ সিরিজের অংশ। এই কার্যক্রমটি ‘পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ায় আঞ্চলিক সহায়তা কার্যপ্রণালী’ প্রকল্পের অধীন, যা সিভিকাস-এর অংশীদারিত্বে এবং গ্লোবাল সাউথ অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় ‘ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভ‘ এর আওতায় মেটামরফোসিস ফাউন্ডেশন ও টেকসুপ সংস্থাগুলোর দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে। একটি কন্টেন্ট-শেয়ারিং চুক্তির অংশ হিসেবে এটি গ্লোবাল ভয়েসেস-এ প্রকাশ করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জ্বালানি সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সবচেয়ে বড় শিকার কাজাখস্তানের গ্রামীণ এলাকার নারীরা। বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে পানি সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। ঘনবসতি, কৃষিনির্ভরতা এবং প্রাচীন সেচ ব্যবস্থার ফলে জলের অপচয়, এইসব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ জাম্বিল অঞ্চলের কিজিলসাই গ্রামে জলের অভাব নিত্যদিনের সমস্যা। পরিবারের জন্য, বাগানে এবং গবাদি পশুর কাজে জল জোগাড় করতে মহিলাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। এই পরিশ্রমের কোনও পারিশ্রমিক মেলে না, স্বীকৃতিও জোটে সামান্য। তার ওপর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসের কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরকারি সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালে স্থানীয় সমাজকর্মী নাজগুল আইদাবোসিনোভা এই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামের মহিলাদের সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে, নিজেদের শ্রম ও উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য হিসাব করতে এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে একজোট হয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে গ্লোবাল ভয়েসেস। সাক্ষাৎকারটি স্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততার স্বার্থে সম্পাদনা করা হয়েছে।

গ্লোবাল ভয়েসেস (জিভি): আপনার সংগঠন সম্পর্কে কিছু বলুন। ডিজিটাল স্পার্ক প্রকল্পে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

নাজগুল আইদাবোসিনোভা (নাআ): আমি কিজিলসাইয়ের গ্রামীণ মহিলাদের নিয়ে কাজ করা একটি স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। আমরা এমন মহিলাদের পাশে দাঁড়াই, যাঁরা সংসার সামলানোর পাশাপাশি ছোটখাটো খামার চালান, গবাদি পশুর দেখাশোনা করেন এবং পরিবারের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন। অথচ প্রয়োজনীয় তথ্য ও সরকারি পরিষেবা পাওয়া কিংবা এলাকার নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।

ডিজিটাল স্পার্ক প্রকল্পে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারণ আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ডিজিটাল প্রযুক্তি মহিলাদের দৈনন্দিন জীবনে সত্যিই কাজে লাগতে পারে। গ্রামের অনেক মহিলার কাছেই স্মার্টফোন রয়েছে। কিন্তু ফোন করা বা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের বাইরে সেই ফোনের আরও নানা কাজের কথা তাঁরা জানতেন না।

আমাদের লক্ষ্য ছিল, স্মার্টফোনকে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সরকারি পরিষেবা ব্যবহার, এলাকার সমস্যা নথিবদ্ধ করা, সংসার ও খামারের কাজ সামলানো এবং অনলাইনে নিরাপদ থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শেখানো। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সহজ হবে।

জিভি: আপনার এলাকার কোন সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ আপনাকে এই প্রকল্প শুরু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল?

নাআ: কিজিলসাইয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল নিয়মিত জল না পাওয়া। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পাইপে জল সরবরাহ প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে বাড়ির দৈনন্দিন কাজ, বাগান, গবাদি পশু এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের ওপর।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় মহিলাদের। জল জমিয়ে রাখার জন্য তাঁদের ভোরে উঠতে হয়, বাড়ির কাজ ও চাষের জন্য জল বয়ে আনতে হয়, গবাদি পশুর দেখাশোনা করতে হয়। কখন সেচের জল পাওয়া যাবে, তার জন্যও অপেক্ষা করতে হয়। এই কাজগুলি অত্যন্ত পরিশ্রমের, অথচ এর কোনও পারিশ্রমিক নেই।

জলের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোও সহজ ছিল না। কী সমস্যা হচ্ছে, তা মহিলারা নিজেরাই জানতেন। কিন্তু সেই সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ প্রয়োজন, সে সম্পর্কে তাঁদের অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা ছিল না। ফলে নিজেদের দাবি জানানোর আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়নি।

জিভি: প্রকল্পে অংশগ্রহণের সময় আপনার সংগঠন কী কী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে?

নাআ: এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের দশজন মহিলাকে নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রথম কর্মশালার বিষয় ছিল ‘আপনার ফোন শুধু হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নয়: সংসারের কাজেও স্মার্টফোন’। এতে শেখানো হয় কীভাবে ফোনে কাজের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা যায়, খামার ও গবাদি পশুর দেখাশোনার বিভিন্ন বিষয় ছবির মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা যায় এবং ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবা ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি ও অনলাইনে নিরাপদ থাকার বিষয়েও আলোচনা হয়।

দ্বিতীয় কর্মশালার নাম ছিল ‘স্মার্ট ওয়াটার: বাগানের জলের তেষ্টা মেটাতে প্রযুক্তির ব্যবহার’। এই পর্বে জলের অধিকার, জল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং জলের সমস্যার প্রমাণ কীভাবে সংগ্রহ করতে হয়, তা শেখানো হয়। তারিখ, সময় ও জিপিএস অবস্থান-সহ ছবি তুলে জলের পরিস্থিতি নথিবদ্ধ করার পদ্ধতিও ছিল প্রশিক্ষণের অংশ।

তৃতীয় কর্মশালার বিষয় ছিল ‘হিসাব রাখুন, লাভ বুঝুন: প্রতিটি কাজের মূল্য জানা জরুরি’। এতে নিজেদের অবৈতনিক শ্রমের হিসাব রাখা এবং দুধের মতো কৃষিজ পণ্যের প্রকৃত উৎপাদন খরচ নির্ণয়ের পদ্ধতি শেখানো হয়। পাশাপাশি আধুনিক সেচব্যবস্থা ব্যবহার করলে কতটা সময় ও শ্রম বাঁচানো সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা হয়।

চতুর্থ ও শেষ কর্মশালার নাম ছিল ‘স্বচ্ছ সমঝোতা: প্রযুক্তির সাহায্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলা’। এতে নিজেদের সময়কে আরও ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা, পারস্পরিক সহযোগিতার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখার বিষয়গুলি উঠে আসে। পাশাপাশি জলের অধিকার নিয়ে সম্মিলিতভাবে দাবি জানানো এবং যৌথ স্মার্ট সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

জিভি: প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ফলে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের এবং সামগ্রিকভাবে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে? কয়েকটি উদাহরণ দেবেন?

নাআ: এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার পর মহিলারা স্মার্টফোনকে আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন না। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, নিজেদের কাজ সহজ করা, অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এলাকার সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি কতটা কাজে লাগতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাঁরা এখন জানেন কীভাবে ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবা ব্যবহার করে অনলাইনে সরকারি নথির জন্য আবেদন করা যায়। এর ফলে সরকারি দপ্তরে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে, বাঁচবে সময় ও যাতায়াতের খরচ।

জলের সমস্যার প্রমাণ কীভাবে সংগ্রহ করতে হয়, সেটিও তাঁরা শিখেছেন। শুকিয়ে যাওয়া খাল, ভাঙা পাইপ কিংবা দূষিত জলের ছবি তুলে তার সঙ্গে তারিখ, অবস্থান ও সমস্যার বিবরণ যুক্ত করে রাখলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো অনেক সহজ হয়।

নিজেদের শ্রমের মূল্য বোঝার ক্ষেত্রেও এই প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। মহিলারা নিজেদের কাজের সময় হিসাব করতে শিখেছেন এবং দুধ উৎপাদন বা সেচের মতো কাজে প্রকৃত কতটা সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, তা বুঝতে পেরেছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে হাতে সেচ দেওয়ার কাজে মাসে প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় চলে যেতে পারে।

আধুনিক সেচব্যবস্থা চালু করা গেলে এই সময়ের অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব। সেই সময় তাঁরা আয়ের কাজে, পড়াশোনায়, বিশ্রামে কিংবা গ্রামের অন্যান্য কাজে দিতে পারবেন।

প্রশিক্ষণের সুফল অন্য মহিলাদের কাছেও পৌঁছতে শুরু করেছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তিনজন ইতিমধ্যেই আশপাশের গ্রামের মহিলাদের নিজেদের শেখা বিষয়গুলি জানাতে শুরু করেছেন।

জিভি: এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ফলে ডিজিটাল গণতন্ত্র ও নাগরিক পরিসর সম্পর্কে আপনার ধারণা এবং অভিজ্ঞতায় কী পরিবর্তন এসেছে?

নাআ: ডিজিটাল গণতন্ত্র সম্পর্কে আমার ধারণা এখন অনেক বেশি স্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক। আগে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে মূলত যোগাযোগ বা তথ্য পাওয়ার মাধ্যম হিসেবেই দেখতাম। কিন্তু এই প্রকল্পের মাধ্যমে বুঝেছি, প্রযুক্তি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি পরিষেবা পাওয়া, সমস্যার প্রমাণ সংগ্রহ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এমনকি মানুষকে একজোট হয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরতেও সাহায্য করতে পারে।

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, মহিলাদের অবৈতনিক শ্রম, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া জলসংকট এবং নাগরিক পরিসরের মধ্যে যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, সেটিও এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।

গ্রামীণ মহিলাদের কাছে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের অর্থ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শেখা নয়। এর অর্থ নিজেদের কথা বলার সুযোগ তৈরি করা, সমস্যার প্রমাণ তুলে ধরা, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানা এবং পরিবার ও গ্রামের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়া।

জিভি: এই প্রকল্প থেকে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা কী?

নাআ: আমার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি হল, ডিজিটাল সাক্ষরতার প্রশিক্ষণ তখনই সবচেয়ে কার্যকর হয়, যখন তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত থাকে। কিজিলসাইয়ের মহিলাদের কাছে জলসংকট, কৃষিকাজ, সংসারের দায়িত্ব এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার সমস্যাগুলিই ডিজিটাল প্রযুক্তি শেখার প্রধান প্রেরণা হয়ে উঠেছে।

আরও একটি বিষয় বুঝেছি—মহিলাদের শুধু তথ্য দিলেই হয় না, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখার মতো পরিবেশ এবং একে অপরের সহযোগিতাও প্রয়োজন। নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানা, শ্রমের মূল্য হিসাব করা এবং সমস্যার প্রমাণ সংগ্রহ করতে শেখার ফলে তাঁরা এখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের কথা তুলে ধরতে অনেক বেশি প্রস্তুত।

এই প্রকল্প দেখিয়েছে, একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়া মহিলাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হলে প্রশিক্ষণ অনেক বেশি কার্যকর হয়। নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ফলে তাঁরা সহজে একে অপরের কথা বুঝতে পারেন, আস্থা তৈরি হয় এবং শেখা বিষয়গুলি বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোও সহজ হয়।

জিভি: এরপর কী? ভবিষ্যতে নিজেদের কাজ এবং গ্রামের অন্য মহিলাদের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতা কীভাবে ছড়িয়ে দেবেন?

নাআ: আমরা নিজেদের মধ্যে শেখা ও শেখানোর এই উদ্যোগ আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যাঁরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তাঁরা গ্রামের অন্য মহিলাদের স্মার্টফোনের ব্যবহার, ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং এলাকার সমস্যার প্রমাণ কীভাবে নথিবদ্ধ করতে হয়, তা শেখাবেন।

পাশাপাশি গ্রামের জলসংকট মোকাবিলায় একটি সমবায় গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে মহিলারা একজোট হয়ে জলের অধিকার নিয়ে দাবি জানাতে পারবেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারবেন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কূপ বা যৌথ সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পথ খুঁজতে পারবেন।

আমাদের লক্ষ্য, ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো। আমরা চাই, গ্রামীণ মহিলাদের পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রয়োজন যেন আর উপেক্ষিত না থাকে; বরং সেগুলি যথাযথ স্বীকৃতি পায়।

(English) ভাষায় লিখেছেন Nurbek Bekmurzaev
(বাংলা) ভাষায় অনুবাদ করেছেন সৌম্যদীপ দেওয়ানজী
মূল লেখাটি দেখুন (English)