আদিবাসী রক্ষীরা ভূমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে Global Voices বাংলা ভার্সন

Tকুতিভিরেনি ও ওভিরিতে কুল আর্থের উদ্যোগ তিনটি মূল ধারণাকে ঘিরে কাজ করে: প্রথমত, উপগ্রহের মাধ্যমে দাবানলের সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষণ। দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্যবাহী অগ্নিচর্চার নিরাপদ সময় জানানোর জন্য পতাকা-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু। তৃতীয়ত, ছোট অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টি-অরণ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য সেগুলোর ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ।

কুতিভিরেনি ও ওভিরিতে কুল আর্থের উদ্যোগ তিনটি মূল ধারণাকে ঘিরে কাজ করে: প্রথমত, উপগ্রহের মাধ্যমে দাবানলের সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষণ। দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্যবাহী অগ্নিচর্চার নিরাপদ সময় জানানোর জন্য পতাকা-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু। তৃতীয়ত, ছোট অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং বৃষ্টি-অরণ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য সেগুলোর ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিরোধের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। ছবি: কুল আর্থ, ২০২৬। অনুমতিক্রমে ব্যবহৃত।

সেপ্টেম্বর চলছে আর ২০২৬ সাল ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে দাবানলের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। জলবায়ু সংকটের তাপ ও শুষ্কতায় ফ্রান্সের বোর্দো শহরের উপকণ্ঠে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ২ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন এবং স্পেনে মৃত্যুও ঘটেছে। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত পেরিয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে এবং কুয়াশার মতো ধোঁয়াশায় ঢেকে দিয়েছে শহরগুলোকে।

দক্ষিণ গোলার্ধে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের ঘটনা চলতে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, তীব্র এল নিনো ইতিমধ্যে উত্তপ্ত পৃথিবীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। ২০২৪ সালে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আমাজন দাবানল যে পরিস্থিতিতে ঘটেছিল, তেমন অবস্থার ঝুঁকি আবার তৈরি হচ্ছে।

আগামী মাসগুলোতে আগুন ও খরার ঝুঁকি বাড়তে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে আমাজন বৃষ্টি-অরণ্যের আদিবাসীরা অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্য হিসেবে নতুন ভূমিকায় এগিয়ে আসছেন। জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁরা রক্ষা করছেন নিজেদের ঘরবাড়ি এবং এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।

বিজ্ঞাপন

এ বছরের এল নিনো আবহাওয়ার আগে পেরুর কুতিভিরেনি ও ওভিরি সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা কুল আর্থের কাছে যান। তাঁরা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে আসন্ন মৌসুমে যে কোনো অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় তাঁরা প্রস্তুত আছেন। সংস্থাটির এই দুই আদিবাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং এনে নদীর কেন্দ্রীয় আশানিঙ্কা সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে পামারি কর্মসূচি গড়ার অভিজ্ঞতাও তাদের ছিল। ফলে যেসব সম্প্রদায় আগে থেকেই তৎপর হয়ে উঠছিল, তাদের মধ্যে চারটি অগ্নিনির্বাপক দল গঠন করা সহজ হয়েছে।

কুতিভিরেনিতে নবগঠিত চুল্লাচাকি অগ্নিনির্বাপক দল ইতিমধ্যে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হয়েছে। আমাজনের এক বনদেবতার নামে নামকরণ করা এই দলের সদস্যরা ভূমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকা রক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে অবগত। আগস্টের শুরুতে তাঁদের প্রশিক্ষণের প্রথম পরীক্ষাগুলোর একটি আসে: তসিয়াপো (Tsyapo) ও পাহোনাল (Pajonal) সম্প্রদায়ের মানুষদের থেকে সতর্কবার্তা পেয়ে কমিউনিটি ব্রিগেডের সদস্যরা কেন্দ্রীয় কুতিভিরেনিতে তাদের সহযোগীদের সঙ্গে মিলে আগুন মোকাবিলায় যোগ দেয় এবং সফলভাবে তা নিভিয়ে ফেলে।

কুল আর্থের বন উপাত্ত ব্যবস্থাপক হুলিও আকোস্তা বলেন, সংস্থাটির সাথে সম্প্রদায়গুলোর যৌথভাবে গড়ে তোলা কাজের সর্বোত্তম ব্যবহার সংস্থাটির কাছে প্রশংসনীয়। তিনি যোগ করেন, “তসিয়াপো ও পাহোনালে নেওয়া এই প্রাথমিক পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, কর্মশালায় তারা যা শিখেছেন তা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করেছেন।”

প্রশিক্ষণটি সরাসরি পামারি কর্মসূচির ধারণা থেকে নেওয়া হয়েছিল। পামারির মতোই কুতিভিরেনি ও ওভিরির সঙ্গে কুল আর্থের এই উদ্যোগ তিন মূল ধারণাকে ঘিরে চলে: উপগ্রহ-ভিত্তিক অগ্নিঝুঁকির সতর্কবার্তার বাড়তি পর্যবেক্ষণ, ঐতিহ্যবাহী অগ্নিচর্চার নিরাপদ সময় বোঝাতে পতাকা-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু এবং ছোট অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও বৃষ্টি-অরণ্যের আদিবাসীদের ব্যাপক ক্ষতি ঠেকানোর জন্য বাস্তবিক প্রশিক্ষণ।

সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেরাই প্রায়ই ব্রিগেডের চোখ হিসেবে কাজ করেন, ধোঁয়া বা আগুনের শিখা দেখলে তাদের সতর্ক করে দেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে ব্রিগেডের সদস্যরা প্রথমে দাবানল মূল্যায়ন করেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাকতেই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, যাতে কর্তৃপক্ষের আরও জটিল পদক্ষেপের প্রয়োজন না হয়।

আকোস্তা জোর দিয়ে বলেন যে, এই ব্রিগেডগুলোর মূল কাজ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে প্রতিরোধে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “এটি তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ে। তবে পতাকা-ব্যবস্থার মতো নেওয়া পদক্ষেপ এই দাবানলের ঘটনা কমাতে সাহায্য করে। তিনি আরও বলেন, “ব্রিগেড সদস্যদের উদ্যোগ ও আরও শেখার আগ্রহ দেখে আমরা সম্মিলিতভাবে করা কাজ সম্প্রসারণ ও উন্নত করতে অনুপ্রাণিত হই।”

ঘরবাড়ি রক্ষার পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো বৃষ্টি-অরণ্যের রক্ষক হিসেবেও কাজ করে। জলবায়ু সংকটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বন এক অপরিহার্য বৈশ্বিক সম্পদ। ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় জলবায়ু প্রশমনের ২৩ শতাংশ বৃষ্টি-অরণ্য সরবরাহ করে । দাবানলে এগুলো ধ্বংস হলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক কার্বন-ভান্ডার কমে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ কার্বন আবার বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।

এখনই সব আগুন মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না। আগস্টে কুতিভিরেনিতে একটি অগ্নিকাণ্ড পেরুর জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সূচকে পাঁচের মধ্যে তিন মাত্রায় পৌঁছায়। সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান যে, “যা ছিল, তার প্রায় কিছুই টিকে নেই।” আগুনটি চার দিন ধরে জ্বলছিল এবং ৫০ হেক্টর জমি অর্থাৎ প্রায় ৭০টি ফুটবল মাঠের সমান এলাকা ধ্বংস করেছে।

সম্প্রদায়গুলোর ওপর চাপ আরও বাড়তে থাকায়, কুল আর্থ আরও প্রশিক্ষণ চালু করে এই উদ্যোগটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পে রূপ দিতে চায়। আদিবাসীদের আরও অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়ে তারা পেরুর আমাজনে দাবানল বিষয়ক প্রশিক্ষণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পারবে বলে আশা করছে।

(English) ভাষায় লিখেছেন Cool Earth
(বাংলা) ভাষায় অনুবাদ করেছেন মাসুদুল জারিফ
মূল লেখাটি দেখুন (English)